নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেপাল ও লাগোয়া তিব্বতের সাম্প্রতিক প্রলয় কাণ্ড ভারত সরকারকে নাড়িয়ে দিয়েছে। যদি ভবিষ্যতেও এই ধরনের ঘটনা ঘটে তখন কীভাবে সামলানো হবে? আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন সংস্থা ডিফেন্স জিয়োইনফরমেটিকস রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্টের (ডিজিআরই) উপর। ২০২২ সালে প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থার (ডিআরডিও) দুটি ল্যাবকে যুক্ত করে সংস্থাটি গঠন করা হয়। এর সদর দপ্তর চণ্ডীগড়ে। হিমবাহ এবং হিমালয়ে ধসের উপর বিশেষ নজরদারি চালিয়ে সতর্কবার্তা প্রদানই এই সংস্থা তৈরির উদ্দেশ্য। হিমবাহের তুষারধসের উপর নজর রাখার জন্য রয়েছে তাদের ৭২টি বিশেষ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এছাড়া আছে ৪৫টি স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এডব্লুএস) এবং উত্তর সিকিমে একটি বিশেষ রেডার। আরও তিনশোর বেশি এডব্লুএস বসানোর কাজ চলছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন হিমবাহ এবং লাগোয়া লেকের বিপর্যয় বা গ্লফের বিপদ মোকাবিলা নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন। হিমবাহ আছে হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ প্রভৃতি অঞ্চলে। কাজটি একযোগে করাই দস্তুর। তাই সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসনগুলির সঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার সমন্বয় বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বৈঠকটি ডাকা হয়। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এবং কেন্দ্রীয় জল কমিশনের সঙ্গে ডিজিআরইর অফিসাররা ওই বৈঠকে ছিলেন।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, হিমালয় এলাকায় আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির উপর তাদের বিশেষ নজরদারি থাকে। পাহাড়ে ফ্লাশ ফ্লাড বা হড়পা বন্যাপরিস্থিতির আশঙ্কা থাকলে সতর্কবার্তা ইস্যু করা হয়। কিন্তু আবহাওয়া দপ্তর হিমবাহের উপর নজরদারি করে না। এই কাজটি মূলত ডিজিআরই করে থাকে। তুষারধসের আশঙ্কার ব্যাপারে সেনাবাহিনী ছাড়াও বিভিন্ন অসামরিক কর্তৃপক্ষকেও তারা সতর্কবার্তা দেয়। বিপদের মাত্রা অনুযায়ী হলুদ, কমলা, লাল ও কালো সতর্কবার্তা ইস্যু করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের বৈঠক থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, হিমবাহ ও হিমবাহ লেক থেকে বিপর্যয়ের ব্যাপারে আগাম সতর্ক হতে উপর্যুক্ত সমন্বয় বাড়াতে হবে। সতর্কবার্তা দ্রুত জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপগ্রহের মাধ্যমে হিমবাহগুলির উপর নিরন্তর নজর রাখার সুযোগ রয়েছে। ভারতসহ বহু দেশের উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি এই কাজে ব্যবহার করা হয়। কয়েকদিন আগে ইসরো যে ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’ মহাকাশে পাঠিয়েছে সেটি এই ব্যাপারে বিশেষভাবে কার্যকরী। উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণে দক্ষ প্রযুক্তিবিদেরও অভাব নেই দেশে।