


অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন সিপিএমের কাছে আসন শূন্যের গেরো কাটিয়ে ওঠার লড়াই। নদীয়া জেলার সব আসনেই বামের শক্তিক্ষয় হয়েছে। তারই মধ্যে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল আশা জাগিয়েছে বাম শিবিরে। ইঙ্গিত মিলেছে, বাম ভোট ফিরে আসার। তাতে কিছুটা উজ্জীবিত হয় বাম শিবির। তাই শিক্ষক পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের, রেড ভলান্টিয়ার্স, গবেষকদের প্রার্থী করা হয়েছে।
গত লোকসভা নির্বাচনে নদীয়া জেলাজুড়ে সিপিএমের ভোট বৃদ্ধির যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল তা ধরে রাখাই বামেদের লক্ষ্য। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় ২০২৪ এর লোকসভা ভোটে জেলার অধিকাংশ আসনে নিজের ভোটের হার বাড়িয়েছিল বামেরা। যার মধ্যে করিমপুর বিধানসভাতেই বামেদের প্রায় ১০শতাংশ ভোট বেড়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, বিজেপির প্রতি সাধারণ মানুষের মোহভঙ্গ হওয়ায় বামেদের ভোটবৃদ্ধি হচ্ছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের জন্য এটাই আশার কারণ বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
বিশেষ করে নদীয়া দক্ষিণের মতুয়া অধ্যুষিত বেশ কিছু বিধানসভা কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্যভাবে ভোট বৃদ্ধি হয়েছে বামেদের। যেমন রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, শান্তিপুর বিধানসভা। এছাড়াও নদীয়া উত্তরে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, নাকাশিপাড়া, কালীগঞ্জ, চাপড়া, করিমপুরে মতো আসনেও বামেদের ভোট বৃদ্ধির হার নজর কেড়েছিল।
পরিসংখ্যান বলছে, নদীয়া দক্ষিণের রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভায় ২০২১ সালে আড়াই শতাংশ ভোট পেয়েছিল বামেরা। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে সেটাই বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছিল। একই ছবি রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভাতেও। সেখানেও বামেদের ভোট ৪.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮.২ শতাংশ হয়েছে। আবার রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভায় বামেদের ভোট একুশের নির্বাচনে ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে লোকসভা নির্বাচনে ৯ শতাংশ হয়েছে। শান্তিপুর বিধানসভায় একুশের নির্বাচনে বামেরা ৪.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ৯ শতাংশ ভোট পায় বামেরা। এছাড়াও কৃষ্ণগঞ্জ, নবদ্বীপ, চাকদহ বিধানসভাতেও ভোটের হায় বেড়েছে বামেদের।
নদীয়া উত্তরের কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় একুশের নির্বাচনে বামেরা পেয়েছিল ৮ শতাংশ ভোট। সেটাই চব্বিশের নির্বাচনে বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। আবার নাকাশিপাড়া বিধানসভায় সিপিএমের ভোট ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশ হয়েছে। কালীগঞ্জ বিধানসভায় বামেদের ভোট ১২ থেকে বেড়ে ১৯ শতাংশ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় করিমপুর বিধানসভায় বামেদের ভোট প্রায় দশ শতাংশ বেড়েছে। এই কেন্দ্রে একুশের নির্বাচনে বামেরা পেয়েছিল ৮ শতাংশ ভোট। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে সেটাই বেড়ে হয়েছে ১৮ শতাংশ। তেহট্ট, পলাশীপাড়া, চাপড়া বিধানসভাতেও ভোট বৃদ্ধি হয়েছে বামেদের।
সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সুমিত বিশ্বাস বলেন, মানুষের ঘরে ঘরে পোঁছে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের দলের প্রার্থীরা মানুষের কাছে পোঁছে যাচ্ছেন। এবার মানুষ তৃণমূল ও বিজেপি মুখ ও মুখোশ দেখে ফেলেছে।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার, মানুষের কাছে এখন সিপিএম অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। তাদের অত্যাচার মানুষ ভোলেনি। মানুষ বিজেপিকেই ভোট দেবে।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, বামেদের জন্যই আজ বিজেপির বাড়বাড়ন্ত। বাংলার মানুষ বামেদের প্রত্যাখ্যান করবে।