নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর ও বস্তিবাসী সংগঠনের ডাকে দেশজুড়ে পালিত হল ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি। সোমবার দুপুরে কলকাতার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল ও আইন অমান্য কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বাম শ্রমিক সংগঠনগুলি। যোগ দিয়েছিল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনও। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে মিছিল ব্যারিকেড ভেঙে এস এন ব্যানার্জি রোডে যাওয়ার সময় পুলিশ তাঁদের আটকায়। নেতা-কর্মীদের রাস্তাতেই গ্রেপ্তার করা হল বলে জানায় পুলিশ। পরবর্তীতে সেখানেই তাঁদের মুক্ত করা হয়। এদিনের আন্দোলন কর্মসূচি বিভিন্ন জেলাতেও পালিত হয়।
মিছিল শুরুর আগে পথসভায় বক্তব্য রাখেন সিটু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তপন সেন, এআইসিসিটিইউর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব বসু, আইএনটিইউসির কামারুজ্জামান, এআইটিইউসির বিপ্লব ভট্ট, ইউটিইউসির দীপক সাহা এবং এআইইউটিইউসির অশোক দাস। সভাপতিত্ব করেন সিটু রাজ্য সভাপতি অনাদি সাহু। সিটু রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলমসহ কয়েকশ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তারবরণ করেন। শ্রম কোড বাতিল, ন্যূনতম মজুরি, হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধেসহ বিভিন্ন দাবিতে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ান শ্রমিক নেতারা।
অন্যদিকে, এদিন সিপিএমের কলকাতা জেলা কার্যালয় প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার। তিনি ঘোষণা করেন, দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে কলকাতার ৮০টি জায়গায় ‘দেশদ্রোহী কারা?’ নামাঙ্কিত কর্মসূচি নেওয়া হবে। সেখানে শিক্ষক, গবেষক এবং সংস্কৃতি কর্মীরা স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরবেন। কল্লোল বলেন, ‘তিনমাসের মধ্যেই নেতাজির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা হল। সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছবিতে জুতো ঝুলিয়ে অবমাননা করা হল। বিভাজন সৃষ্টিকারী হিন্দুত্ববাদী নীতির উপর দাঁড়িয়ে এসব করা হচ্ছে। এই অবস্থায় মানুষের কাছে আমাদের পৌঁছাতে হবে।’