শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: মোটর যান আইনের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন গাড়িতে সাধারণ আলোর পরিবর্তে লাগানো হচ্ছে এলইডি। এই ধরনের গাড়ির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে ঢিলেঢালা মনোভাব দেখাচ্ছে থানাগুলি। গত ন’মাসে গোটা রাজ্যে এই ধরনের এক হাজারের কিছু বেশি গাড়ির বিরুদ্ধে কেস রুজু হয়েছে বলে খবর। এনিয়ে একের পর এক অভিযোগ আসার পর নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছেন রাজ্য পুলিশের কর্তারা। এই সমস্ত গাড়ির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার জন্য জেলাগুলিতে নির্দেশ গিয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা খবর।
মোটর যান আইন অনুযায়ী, হেডলাইটের আলো সর্বোচ্চ ৩০০০ লুমেন ও ৭০ ওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হয়। কোনো গাড়ির মূল কাঠামো বা সংস্থা নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্যের বাইরে গিয়ে কিছু পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এমনকি, গাড়ির ছাদে অতিরিক্ত এলইডি লাগানোও যায় না। সুপ্রিম কোর্টও গাড়ির আলোর তীব্রতা নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে।
এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিভিন্ন গাড়ি এলইডি লাগিয়ে ছুটছে, এই ঘটনা নজরে এসেছে রাজ্য পুলিশের কর্তাদের। শুধু হেডলাইট নয়, কোনো কোনো গাড়িতে আবার চারদিকেই লাগানো থাকে এই ধরনের আলো। এই জোরালো আলোর কারণে উলটো দিক থেকে আসা গাড়ির চালকদের চোখ ধাঁধিয়ে যায়। তাঁরা সামনের রাস্তা দেখতে পান না। যে কারণে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। বিভিন্ন রাজ্য ও জাতীয় সড়কে এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
এলইডি আলোর জেরে বৃষ্টি বা কুয়াশার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। যে কারণে মৃত্যু হচ্ছে অনেকের। আহতের সংখ্যাও বাড়ছে। অথচ এতদিন সব দেখলেও এই ধরনের আলো নিয়ে জেলা পুলিশের থানাগুলি কড়া পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। এলইডি লাগানো গাড়ি নিয়ে অনায়াসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন গাড়ির মালিকরা। ট্রাফিক দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলইডি লাইটের বিরুদ্ধে মাত্র ১ হাজার ২৭টি কেস হয়েছে। কর্তাদের নজরে এসেছে, গড়ে তিন থেকে চারটি কেস হচ্ছে প্রতিদিন। নবান্ন চাইছে, এই জাতীয় গাড়িগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করুক পুলিশ। যাতে রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়। তাই জরিমানার পাশাপাশি এই আলো খোলার জন্য নির্দেশ গিয়েছে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তর থেকে। এরপরই এই ধরনের গাড়ির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বলে খবর।



