Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আমাদের পাড়া’য় গিয়ে ছবি তুলে উধাও নেতারা, অভিষেকের বৈঠকে তুলোধনা, শোরগোল

জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি চলছে। সেই কর্মসূচিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ও হচ্ছে।

‘আমাদের পাড়া’য় গিয়ে ছবি তুলে উধাও নেতারা, অভিষেকের বৈঠকে তুলোধনা, শোরগোল
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি চলছে। সেই কর্মসূচিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ও হচ্ছে। কিন্তু সেই শিবিরে জেলার নেতাদের সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা যাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ছবি তুলেই চলে আসছেন। এর ফলে লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিটিংয়ে এমনই অভিযোগের মুখোমুখি হয়ে মাথা হেঁট জেলা নেতৃত্বের। তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা জানাচ্ছেন, মঙ্গলবার তৃণমূলের ‘নম্বর টু’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসে জেলা নেতৃত্ব। সেই বৈঠকে জেলার প্রথম সারির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রত্যেক জন প্রতিনিধিকে সরকারের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে হবে। শুধু ছবি তুলে চলে আসলে হবে না, সেখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে, তাঁদের অভাব অভিযোগ শুনতে হবে। কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকলে, কড়া পদক্ষেপ করবে দল। ওই বৈঠক প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, সরকারি কর্মসূচিতে জনপ্রনিধিদের আরও সক্রিয় ভাবে উপস্থিত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হন। একইসঙ্গে বৈঠক থেকে সকলকে একসঙ্গে চলার বার্তা দেওয়া হয়। দলের পরিকাঠামো মজবুত রয়েছে। এইটুকু বলতে পারি, আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না। 

Advertisement

জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব সকলের সঙ্গেই কথা বলেছেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও মজবুত হবে বলে আশাবাদী। 
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সংগঠন বেশ মজবুত হয়েছে। গত পঞ্চায়েত, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল থেকে তা স্পষ্ট। কিন্তু এখনও বেশকিছু এলাকা থেকে পিছিয়ে রয়েছে ঘাসফুল শিবির। যার অন্যতম কারণ সাংগঠনিক নেতাদের একাংশের উদাসীনতা। যা একেবারেই ভালো চোখে দেখেছে না উচ্চনেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলায় ৮টি বিধানসভা এলাকা রয়েছে। তার মধ্যে একটি বিধানসভা (খড়গপুর সদর) বিজেপির দখলে। মঙ্গলবারের বৈঠকে খড়গপুর সদর নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। এই এলাকায় বিশেষ কমিটি তৈরি হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সেই বৈঠক চলাকালীন বিভিন্ন ব্লকের নেতাদের নাম ধরে আলোচনা হয়েছে। তৃণমূলের এক নেতা জানাচ্ছেন, জেলা থেকেও বিভিন্ন নেতার সম্পর্কে তথ্য নিয়েছে দল। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী দলের অন্দরে পর্যবেক্ষণ চলছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দলের বেশকিছু নেতার সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য রয়েছে। তার মধ্যে দু›জন বিধায়কও আছেন। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ উচ্চ নেতৃত্ব। এক্ষেত্রে উচ্চপদে থাকলেও, সেই নেতাদের ডানা ছাঁটতে পারে দল।
জেলা তৃণমূলের এক নেতা বলেন, জেলার কয়েকজন বিধায়ক নিয়মিত যাচ্ছেন পাড়ায় সমাধান কর্মসূচিতে। তবে বেশিরভাগই ছবি তুলে চলে আসছেন। সেই তালিকায় রাজ্যের এক মন্ত্রীও আছেন। জন প্রতিনিধিদের হাতের নাগালে পেয়েও কিছুই বলতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরাও এই কর্মসূচিতে থাকছেন না। দল বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমেও সেসব খোঁজখবর নিচ্ছে। 
এ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপি। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, তৃণমূলের নেতারা কাজের চেয়ে প্রচার চায় বেশি। চুরি করলেও এই দলে শাস্তি হয় না। আসলে তৃণমূল ভয় পেয়েছে। তাই এখন থেকেই মিটিং করা শুরু করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ