Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

লাদাখের কিছু এলাকায় ফের ‘দখলদারি’ চীনের

লাদাখের কিছু এলাকায় ফের ‘দখলদারি’ চীনের
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নয়াদিল্লি: লাদাখের একাংশে ফের চীনা ‘অনুপ্রবেশ’। যাকে ঘিরে আরও একবার তিক্ততার পথে দু’দেশের সুষ্ঠু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। দীর্ঘ আলোচনার পর সম্প্রতি ভারত-চীনের মধ্যে লাদাখে সীমান্ত জটিলতা কেটেছে। ইতিমধ্যেই পূর্ব লাদাখ সীমান্তে দু’দেশের তরফে সেনা অপসারণ হয়েছে। তারপরেই লাদাখ নিয়ে অবস্থান বদল চীনের।
Advertisement
অভিযোগ, ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের কিছু এলাকাকে নিজেদের নতুন দু’টি প্রদেশের অংশ বলে দাবি করেছে বেজিং। এনিয়ে শুক্রবার কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তাঁর সাফ কথা, ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনের এই ‘জবরদখল’ কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না দিল্লি। বিষয়টির সূত্রপাত গত ২৭ ডিসেম্বর। ওইদিন চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম জিনহুয়া একটি প্রতিবেদনে জানায়, সেদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশের জিনজিয়াং উইঘুর অটোনমাস রিজিয়ন কর্তৃপক্ষ ‘হিআন’ এবং ‘হেকাং’ নামে দু’টি নতুন কাউন্টি বা প্রদেশ স্থাপন করেছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সেন্ট্রাল কমিটি এবং স্টেট কাউন্সিল ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তকে মান্যতাও দিয়েছে। আপাতত ওই দুই প্রদেশ পরিচালনার দায়িত্ব হোতান অঞ্চলের প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে বলেই জানানো হয় ওই রিপোর্টে। 
এদিন সেই প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রণধীর বলেন, ‘চীনের হোতান প্রদেশের ওই তথাকথিত কাউন্টিগুলির কথা আমরা শুনেছি। সেখানে আমাদের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের কিছু অংশকেও ঢুকিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভারত এই ধরনের বেআইনি দখলদারি একেবারেই সহ্য করবে না। বিভিন্ন কূটনৈতিক পন্থায় আমরা এই বিষয়ে আমাদের প্রতিবাদ বেজিংকে জানিয়ে দিয়েছি।’ একই সঙ্গে তিব্বত অটোনমাস রিজিয়নে ব্রহ্মপুত্রের বুকে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির উদ্যোগেরও এদিন সমালোচনা করেছেন রণধীর। নদীর নিচু অববাহিকায় থাকা দেশগুলির স্বার্থের কথা না ভেবেই বেজিং একতরফা ভাবে নদীর উঁচু এলাকায় ওই প্রকল্প তৈরি করছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুধু চীন নয়, এদিন সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট-এরও কড়া সমালোচনা করেছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মইজ্জুকে ইমপিচ করার জন্য সেদেশের বিরোধী শিবিরের ষড়যন্ত্রে ভারতও জড়িত ছিল বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। সেই রিপোর্টকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন তকমা দিয়ে রণধীর বলেন, ‘ওই সংবাদপত্র এবং সাংবাদিক উভয়ই যে ভারতের বিরুদ্ধে শত্রুতার মনোভাব নিয়ে চলছে, তা স্পষ্ট। ওদের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি আপনাদের উপরই ছাড়লাম। তবে আমাদের কাছে ওদের বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারেই শূন্য।’
সম্পর্কিত সংবাদ