Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

লাভ

লাভ
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য, বা মধুর—এই সকলের মধ্যে একটা ভাব আশ্রয় না করলে তাঁকে লাভ করা যায় না, ঋষিদের শান্তভাব ছিল। তারা আর কিছু ভোগ করবার ইচ্ছা কোরতো না। যেমন স্ত্রীর স্বামীতে নিষ্ঠা, সে জানে আমার পতি কন্দর্প। হনুমানের দাস্যভাব। যখন রামের কাজ করে তখন সিংহ তুল্য। স্ত্রীরও দাস্যভাব থাকে। তাই স্বামীর সেবা প্রাণপণে করে। মার কিছু কিছু থাকে; যশোদারও ছিল। সখ্য; বন্ধুভাব। শ্রীদামাদি কৃষ্ণকে কখনও মুখের এঁটো খাবার খাওয়াচ্ছে, কখনও বা কাঁধে উঠছে। এস, এস কাছে এসে বস। বাৎসল্য ভাব—যেমন যশোদার। স্ত্রীরও কিছু কিছু থাকে; স্বামীকে প্রাণভরে খাওয়ায়। কৃষ্ণের কখন্‌ খেতে ইচ্ছা হবে বলে যশোদা ননী হাতে করে বেড়াতেন। ছেলেটী যদি পেট ভরে খায়, তবেই মার আনন্দ। মধুর—যেমন শ্রীমতীর। স্ত্রীরও মধুর ভাব। কথাটা এই—ঈশ্বরকে ভালবাসতে হবে, সচ্চিদানন্দে প্রেম। ভগবানকে জানতে হলে ভগবতীর মত হতে হবে। ভগবতী যেমন শিবের জন্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন সেইরূপ তপস্যা করতে হয়। রামকে জানতে হলে সীতার মত হতে হবে। পুরুষকে জান্‌তে হলে সখীভাব, দাসীভাব, মাতৃভাব এই সব প্রকৃতিভাব আশ্রয় করতে হয়। আপনাকে পুরুষ বলে বোধ থাকে না। মীরাবাঈ স্ত্রীলোক বলে রূপ গোস্বামী তার সহিত দেখা করতে চান নাই। মীরাবাঈ বলে পাঠালেন ‘শ্রীকৃষ্ণই একমাত্র পুরুষ, বৃন্দাবনে সকলেই সেই পুরুষের দাসী; গোস্বামীর পুরুষ অভিমান করা কি ঠিক হয়েছে?’
Advertisement
তাঁকে চর্ম্মচক্ষে দেখা যায় না। তিনি দিব্যচক্ষু দেন তবে দেখা যায়। অর্জ্জুনকে বিশ্বরূপ দর্শনের সময় ঠাকুর দিব্য চক্ষু দিয়েছিলেন। সাধনা করতে করতে একটী প্রেমের শরীর হয়, তার প্রেমের চক্ষু, প্রেমের কর্ণ, সেই চক্ষে তাঁকে দেখে। সেই কর্ণে তাঁর বাণী শোনা যায়।
ভক্ত তিন শ্রেণীর — উত্তম, মধ্যম, অধম। উত্তম ভক্ত বলে, “যা কিছু দেখছি, সবই তাঁর এক একটী রূপ। তিনিই এই সব হয়েছেন।” মধ্যম ভক্ত বলে, “তিনি হৃদয় মধ্যে অন্তর্য্যামীরূপে আছেন।” অধম ভক্ত বলে, ‘ঐ ঈশ্বর’ অর্থাৎ আকাশের দিকে সে দেখিয়ে দেয়। তাঁকে কিন্তু দর্শন করলে সব সংশয় চলে যায়। আর এক রকম ভক্ত আছে। কপট ভক্ত।
ঠিক ভক্তের লক্ষণ আছে। গুরু উপদেশ শুনে স্থির হয়ে থাকে। জাত সাপ যখন বেহুলার গান হয় তখন স্থির হয়ে শুনে; কিন্তু কেউটে নয়।
ভগবানের পাদপদ্মে ভক্তি হলেই বিষয় কর্ম্ম আপনা আপনি ত্যাগ হয়ে যায়। তার আর বিষয় কর্ম্ম ভাল লাগে না। যেমন ওলা মিছরির পানা খেলে চিটেগুড়ের পানা আর কেউ খেতে চায় না। যার ভগবানে ভক্তিলাভ হয়েছে, তার কিরূপ ভাব হয় জান? আমি যন্ত্র, তুমি যন্ত্রী, আমি ঘর, তুমি ঘরণী; আমি রথ, তুমি রথী; যেমন বলাও তেমনি বলি, যেমন করাও তেমনি করি, যেমন চালাও তেমনি চলি। ঈশ্বরে ষোল আনা মন গেলে, ‘অমুক দিন সংক্রান্তি, ভাল করে হরিনাম করবো’ এ সব আর ঠিক থাকে না। রাম হনুমানকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সীতাকে কিরূপ দেখে এলে বল।’ হনুমান বল্লে, ‘রাম! সীতার শুধু শরীর পড়ে আছে দেখলাম। তার ভিতর মন প্রাণ নেই। সীতার মন প্রাণ যে তোমার পাদপদ্মে সমর্পণ করেছেন। তাই শুধু শরীর পড়ে আছে। আর কাল (যম) আনাগোনা করছে। 
কুমারকৃষ্ণ নন্দী সংকলিত ‘শ্রীরামকৃষ্ণ বাণী ও শাস্ত্রপ্রমাণ’ থেকে
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ