সংবাদদাতা, সিউড়ি: শুক্রবার রাতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দুবরাজপুর। পুরসভার চেয়ারম্যানের ভাইপোর বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরি’ ও কয়েকজন যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে রাতেই দুবরাজপুর থানার সামনে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান জখমদের পরিবারের লোকজন ও পাড়ার যুবকরা। থানার সামনে ঘণ্টাদুয়েক ধরে বিক্ষোভ চলে। ঘটনায় দুবরাজপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের ভাইপো তথা ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলারের ছেলে সাগ্নিক পাণ্ডে সহ সাতজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের শনিবার দুবরাজপুর আদালতে তোলা হলে সাতদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। অশান্তি এড়াতে এদিন আদালত চত্বরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সদাইপুর থানা এলাকার বাঁধেরশোল গ্রামে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়। সেখানে সেমিফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় দুবরাজপুর পুরসভার নায়েকপাড়া ও বাউরিপাড়া। সেই ম্যাচে জয়ী হয় বাউরিপাড়া। খেলা চলাকালীন দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি হয়। তারই প্রতিশোধ নিতে রাতে ট্রফি জিতে ফেরার সময় বাউরিপাড়ার কয়েকজন যুবকের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। বাউরিপাড়ার যুবকরা জানান, সেমি ফাইনালের পর তাঁরা ফাইনাল ম্যাচেও জয়ী হন। রাতে তাঁরা ট্রফি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। দুবরাজপুর পাওয়ার হাউস মোড় ও সাতকেন্দুলি মোড়ের মাঝামাঝি এলাকায় নায়েকপাড়ার কয়েকজন যুবক তাঁদের পথ আটকায়। ফুটবল ম্যাচে হারের প্রতিশোধ নিতে তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয়। তাতে একজন গুরুতর জখম হন। তিনি বর্তমানে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ওই মারধরের প্রতিবাদে বাউরিপাড়ার লোকজন রাস্তায় নামেন। দুবরাজপুর থানার সামনে ১৪নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। দ্রুত মূল অভিযুক্ত সাগ্নিকের গ্রেফতারের দাবিতে সরব হন। এরপরই মূল অভিযুক্ত সাগ্নিক সহ সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলি।
বাউরিপাড়া ফুটবল দলের পক্ষে সদাই বাউরি বলেন, আমরা ট্রফি জিতে ফেরার সময় নায়েকপাড়ার ছেলেরা হামলা চালায়। চেয়ারম্যানের ভাইপো সহ বেশ কয়েকজন দাদাগিরি করেন। আমার এক বন্ধু জখম হয়ে সিউড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমাকেও মারধর করা হয়েছে। ওদের শাস্তি চাই।
দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা বলেন, খেলার মাঠের সমস্যা সেখানেই মিটে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু, সেই অশান্তি থানা পর্যন্ত গড়াল। একজনকে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য শাসকদলই দায়ী। রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের সদস্যরা প্রভাব খাটিয়ে মানুষকে হেনস্তা, মারধর করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ঘটনা। খেলাকে কেন্দ্র করে অশান্তি হয়েছে। পুলিশ তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান পীযূষ পাণ্ডে বলেন, খেলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের অশান্তি হয়েছে। আইন আইনের পথে হেঁটেছে।