


সংবাদদাতা, দুর্গাপুর ও কাটোয়া: ভোটের ঠিক মুখেই নাটকীয় পটপরিবর্তন। মঙ্গলবার পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীপদ ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন পাঁচ প্রার্থী। পশ্চিম বর্ধমানে ২৩ এপ্রিল ভোট। এদিন ছিল প্রচারের শেষ দিন। সেই শেষলগ্নে চমক দিয়ে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন চার প্রার্থী। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ জেলার খড়গ্রামের আম জনতা পার্টির প্রার্থী যাদব দাস পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় এসে তৃণমূলে যোগ দেন। মঙ্গলবার কাটোয়ায় তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার দুর্গাপুরের জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে রানিগঞ্জ বিধানসভার প্রার্থী রাহুল ঘোষ, দুর্গাপুর পূর্বের প্রার্থী রুবিয়া বেগম, বারাবনির প্রার্থী অদৈত্য দাস এবং পাণ্ডবেশ্বরের জুভেদ শেখ দল বদল করেন।
জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর হাত থেকে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন তাঁরা। নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং হুমায়ুন কবীরের মধ্যে ১০০০ কোটি টাকার একটি গোপন চুক্তির খবর সামনে আসতেই এই প্রার্থীরা সত্য অনুধাবন করেছেন। হুমায়ুন কবীরের মূল লক্ষ্য ছিল মুসলিম ভোট ভাগ করে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। মিথ্যার রাজনীতিতে মানুষ বেশিদিন থাকে না। তাই বিজেপির সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগ সামনে আসতেই ওঁদের চোখ খুলে গিয়েছে। তাই তাঁর দলে প্রার্থীরা আজ তৃণমূলে যোগ দিলেন।
জুভেদ শেখ বলেন, আমাদের মুসলিম সমাজের উন্নয়নের এক রঙিন স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। বারবার বলা হয়েছিল, তৃণমূলকে হারাতে হবে। প্রয়োজনে আইএসএফকে সমর্থন করতে হবে। লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলের ভোটব্যাংক কাটতে হবে। কিন্তু যখন দেখলাম, পর্দার আড়ালে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গোপন আঁতাত করে আমাদের দাবার ঘুঁটি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখনই চোখ খুলে গেল।
যাদব দাস কেতুগ্রাম বিধানসভাতে গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের ২০৭নম্বর সংসদের তৃণমূলের সদস্য ছিলেন। তিনি পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলেরই প্রার্থী ছিলেন। এবারে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তিনি হুমায়ূনের দলে যোগ দেন। সেখানে তিনি খড়গ্রাম বিধানসভায় আম জনতা পার্টির প্রার্থী হন। যাদব তৃণমূলে যোগ দিয়ে বলেন, আম জনতা পার্টির সঙ্গে বিজেপির যোগ থাকতে পারে। তাই তৃণমূলে যোগ দিলাম। আমাদের ভুল বুঝিয়ে দলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা এবার তৃণমূলের হয়ে ময়দানে ঝাঁপাব।
তবে, নির্বাচনি প্রচারের শেষ দিনে প্রার্থী দলবদল করলেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই। ফলে, ইভিএম-এ তাঁদের নাম হুমায়ুন কবীরের দলের প্রার্থী হিসেবেই থাকবে। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা এখন থেকে তৃণমূলকেই ভোট দিতে বলবেন।-নিজস্ব চিত্র