


নয়াদিল্লি: গত সপ্তাহেই কাশ্মীরে ‘অপারেশন মহাদেব’ চালিয়ে তিন জঙ্গিকে খতম করেছিল সেনা। জঙ্গিদের কাছে থাকা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করে জানা যায়, তিনজনই পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে পাকিস্তানের পরিচয়পত্রও উদ্ধার হয়। তাতে পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ আরও একবার সামনে আসে। আর এবার ওই অপারেশনে নিহত জঙ্গি হাবিব তাহিরের শেষকৃত্যে এসে লস্কর-ই-তোইবা কমান্ডার রিজওয়ান হানিফকে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল। ২৮ জুলাই তাহিরের মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, দু’দিন পর ৩০ জুলাই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের কুইয়ান গ্রামে ওই জঙ্গির শেষকৃত্য ও প্রার্থনার আয়োজন করেছিল তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে অস্ত্রধারী সঙ্গীদের নিয়ে হাজির হয় ওই লস্কর কমান্ডার। কিন্তু হানিফকে ঢুকতেই বাধা দেওয়া হয়। তাতেই ক্ষেপে ওঠে লস্করের লোকজন। হানিফের এক ভাইপো বন্দুক উঁচিয়ে তাহিরের বাড়ির সদস্যদের হুমকি দেয় বলে জানা গিয়েছে। তাতে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত হানিফ ও তার সঙ্গীরা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। এই ঘটনার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে গিয়েছে।
অপারেশন সিন্দুরের ঠিক পরে নিহত জঙ্গিদের শেষকৃত্যে পাকিস্তানি সেনার একাধিক কর্তার উপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল। লস্করের হেডকোয়ার্টার বলে পরিচিত মুরিদকেতে নিহত জঙ্গিদের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিল আমেরিকার ‘গ্লোবাল টেররিস্ট’ তালিকায় নাম থাকা আব্দুল রউফ। ওই সব অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ্যে আসায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখ পুড়েছিল ইসলামাবাদের। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, অপারেশন সিন্দুরের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভাবমূর্তি উদ্ধারে জোর দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তাই জঙ্গিদের বিভিন্ন প্রকাশ্য কর্মসূচি আয়োজনে আর অবাধ অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। নির্দেশ না মেনে কোনও অনুষ্ঠান আয়োজন করলে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যেই লস্কর কমান্ডারকে নিজের দলের জঙ্গির শেষকৃত্যে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল।