দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ‘ ২০ জুলাই ট্রেলার ছিল। সরকার দাবি না মানলে এবার লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে রাস্তায় নামবে। কেন্দ্র পারলে সামলাক।’ বুধবার দিল্লির যন্তরমন্তরের ধরনা মঞ্চ থেকে এভাবেই মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল ‘ককরোচ’রা। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে, আন্দোলনকারীরা আর কোথাও গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলবে না। সরকারের প্রতিনিধিদের যন্তরমন্তরেই আসতে হবে। সাফ বুঝিয়ে দেওয়া হল যে, নিট-ইউজির প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারি সহ শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতির দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত এভাবেই আন্দোলন চলবে। স্বাভাবিকভাবেই ‘ককরোচ’দের এমন একরোখা মনোভাবে মোদি সরকার যথেষ্টই অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে। সরকারের অন্দরে আশঙ্কার মেঘও ঘনাচ্ছে। একপ্রকার সেই আশঙ্কা থেকেই সুরক্ষার দোহাই দিয়ে বুধবার দিল্লির ১৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় আট ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর সবক’টি মেট্রো স্টেশন পরে খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সারা দিন গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনগুলি বন্ধ করে রাখায় চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মোদি সরকার বিরোধী অসন্তোষও।
গন্তব্যে পৌঁছতে কেউ কয়েক কিলোমিটার হেঁটেছেন। কেউ একাধিক মেট্রো স্টেশনে নেমে দেখেছেন, আদৌ তার গেট খোলা রয়েছে কি না। কেউ আবার ফিরতি ট্রেনে বাড়ি চলে গিয়েছেন। এরই মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় সাময়িক উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় দিল্লির যন্তরমন্তরে। এমনিতেই যন্তরমন্তর চত্বর এবং সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাকে কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে দিল্লি পুলিশ। র্যাফ, পুলিশে ছয়লাপ হয়ে রয়েছে গোটা এলাকা। শ’য়ে শ’য়ে গার্ডরেলের ব্যারিকেডে যেন দুর্গ বানানো হয়েছে ল্যুটিয়েন্স দিল্লিকে। এই পরিস্থিতিতে এদিন সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে যে, অবস্থান আন্দোলন চলাকালীন আচমকাই কয়েকজন পুলিশকর্মীর দিকে পাথর-বোতল ছোড়া হয়। রাতের দিকেও একই অভিযোগ করে পুলিশ। দাবি করা হয়, পাথরের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালেও ভর্তি করাতে হয়েছে। যদিও ‘ককরোচ’দের পক্ষ থেকে পাথর ছোড়ার ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। বিকেলেই বিক্ষোভকারীরা একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছিল, আচমকাই আধ ঘণ্টা ধরে দলে দলে যুবকরা ঢুকতে শুরু করেছে আন্দোলনস্থলে। সেই সময় কোনো পুলিশ ছিল না। ওরা ঢুকে যাওয়ার পর আবার পুলিশ আসে। আন্দোলনকে বদনাম করে এই যুবকদের বিজেপিই পাঠিয়েছে বলে দাবি করে সিজেপি। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছে, তাদের ধরনা যে শান্তিপূর্ণ হচ্ছে না, তা যেনতেনপ্রকারেণ প্রমাণ করতে চাইছে কেন্দ্র।
রাত যত বাড়ছে, ততই যন্তরমন্তরে মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। তাঁরা আসছেন ‘সিস্টেম’ সংশোধনের লক্ষ্যে। দিল্লির গীতা কলোনির বাসিন্দা অর্চিতা দাস চক্রবর্তী যেমন বললেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টি নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমি তাদের আন্দোলনের এজেন্ডাকে সমর্থন করছি। তাই এসেছি। আবারও আসব। আমার আট-ন’বছরের মেয়ে রয়েছে। এখন ছোটো। কিন্তু তারও উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন হবে। তখনও কি এই সিস্টেম থাকবে? ওরা শুধু পরীক্ষাই দিয়ে যাবে?’ ‘সিস্টেমে’র বিরুদ্ধে আমজনতার এই প্রশ্নগুলোই আদতে আতঙ্কে রাখছে মোদি সরকারকে।