


সন্দীপন দত্ত, মালদহ: নিজেদের পাতা ফাঁদে পড়ে মাশুল দিতে হবে বিজেপিকে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিজেপি আঁতাত করে এলোপাথারি সংখ্যালঘুদের নাম ডিলিট করতে গিয়ে বাদ পড়েছেন বিপুল সংখ্যক হিন্দু ভোটারও।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গে ভোট প্রচারে এসে বলেছিলেন, এসআইআরে রাজ্যে দশ লক্ষ হিন্দুর নাম বাদ গিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম মালদহের ইংলিশবাজারের কেন্দ্রের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড। এখানে সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি ডিলিট হয়েছে ৩৯০ জন হিন্দু ভোটারের নাম।
তৃণমূলের মালদহ জেলার মুখপাত্র শুভময় বসুর দাবি, বিজেপি এসআইআর নামক চক্রান্তের মাধ্যমে পিছনের দরজা দিয়ে বাংলার ক্ষমতা দখলের যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তার থেকে হিন্দু ভোটাররাও পার পাচ্ছেন না। সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি শয়ে শয়ে হিন্দুদের নামও ডিলিট হয়েছে। তাই এখন চাপে পড়েছে বিজেপি।
ইংলিশবাজার পুরসভার অবাঙালি অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলির মধ্যে ২৩ নম্বর অন্যতম। এই ওয়ার্ডের আশি শতাংশ ভোটার হিন্দিতে কথা বলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে চব্বিশের লোকসভা ভোটে ইংলিশবাজার পুরসভার এই ওয়ার্ড থেকে বিজেপি তিন হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। বিশ্লেষকদের দাবি, হিন্দিভাষী হিন্দু ভোট যে বিজেপিতে পড়েছিল, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এখন ভোটব্যাঙ্কে থাবা পড়ায় চিন্তায় পড়েছে বিজেপিও।
স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার সুজিত সাহার আক্রমণ, মানুষের ভোটে জিতে বিজেপি এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই তারা এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম ডিলিটের চক্রান্ত করেছিল। সেই ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন প্রায় সাড়ে চারশো হিন্দু ভোটার। যাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই অবাঙালি।
রেল লাইনের দু’পার মিলিয়ে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ বাসিন্দাই হিন্দু। এসআইআরের পর দেখা যাচ্ছে ওয়ার্ডের ৪৪৬ জন বাসিন্দার নাম ডিলিট হয়েছে। যাঁদের মধ্যে মাত্র ১৬ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। বাকিরা হিন্দু ভোটার। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে সাতটি বুথ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১০৩ নম্বর বুথে ১২, ১০৪ নম্বরে ৩৫, ১০৫ নম্বরে ১৩৪, ১৩৭ জন ১০৬ নম্বর বুথে, ১০৭ নম্বরে ৫৫ এবং ১০৮ নম্বরে ৩১ ও ১০৯ নম্বর বুথে ৪২ জন ভোটারের নাম ডিলিট হয়েছে।
বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় এপ্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি এখন বিচারকদের হাতে। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা নথি যাচাই করছেন। যাঁদের কাছে বৈধ নথি আছে, তাঁদের নাম ডিলিট হচ্ছে না।