সংবাদদাতা, রানাঘাট: জমি দিয়েও মেলেনি টাকা। কালনা শান্তিপুর সেতু তৈরিতে জমি জট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস শান্তিপুরের বিধায়কের।
সংবাদদাতা, রানাঘাট: জমি দিয়েও মেলেনি টাকা। কালনা শান্তিপুর সেতু তৈরিতে জমি জট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস শান্তিপুরের বিধায়কের।
তৃণমূল সরকারের আমলে কালনা শান্তিপুর সেতুর জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরেও বছরের পর বছর কেটে গেলেও আজও জমির টাকা পাননি এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবার। এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন এলাকার জমিদাতারা। তাদের স্পষ্ট হুশিয়ারি,“আগে বকেয়া টাকা মেটাতে হবে সরকারকে নয়তো ব্রিজের বাকি কাজ থমকে যাবে”।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,কালনা ও শান্তিপুরেরমধ্যে সংযোগকারী বহু প্রতীক্ষিত সেতুর জন্য যখন জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়, তখন অনেকেই সরকারকে জমি দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়ে যান। কিন্তু বিপত্তি ঘটে প্রায় ৪০টি পরিবারের ক্ষেত্রে। তাদের দাবি, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে সরকারকে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরেওতারা ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি।
জমির টাকা না পাওয়াএলাকারই এক বাসিন্দা প্রদ্যুৎ মান্না জানান, আমার দুটো দাগনম্বর থেকেপ্রায় ৯ শতক জায়গা সরকারকে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি এক টাকাও পাইনি। সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। প্রায় তিন বছর হয়ে গেল এক টাকাও ঢোকেনি। আমার আরেকটি ১.২ শতক জায়গা রয়েছে। সেই জায়গাটিও কালনাা ব্রিজ তৈরির আওতায় পড়ছে। সে জায়গাটি এখনও সরকারকে রেজিস্ট্রি করে দিইনি। আগের বকেয়া না পেলে জায়গাটি রেজিস্ট্রি করে দিতে পারব না বলেও জানান তিনি।
এলাকারই এক জমিদাতা অমিত কুমার ঘোষ জানান,“আমার জায়গা ব্রিজের আওতায় পড়েছিল আমি সরকারের কথামত রেজিস্ট্রি করে দিই। আমাকে ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে টাকা দিয়ে দেয় সরকার”।
এই বিষয় শান্তিপুরের বিধায়ক স্বপন দাস জানান,“বিগত দিনের তৃণমূল সরকারের আমলে শান্তিপুর-কালনাব্রিজ নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। এই বিষয়ে সিআইডি, সিবিআই দিয়ে সব তদন্ত হবে। আমাদের সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেছেন, আমিও বলছি কালনা ব্রিজ হবেই। জমি জটের ব্যাপারে সেখানকার মানুষের সঙ্গে আমরা কথা বলব। আমরা সাধারণ মানুষের পাশে আছি সঙ্গে আছি। তাঁরা যেন কোনোরকমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেগুলো দেখার দায়িত্ব আমাদের”।