


নয়াদিল্লি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫৪ হেক্টর জমি দেওয়া হয়েছিল পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুককে। সেই লিজই এবার বাতিল করে দিল লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন। যা ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অব অল্টারনেটিভ লার্নিং (এইচআইএএল) তৈরির জন্য ৪০ বছরের জন্য ওই জমি দেওয়া হয়। কিন্তু, গত বৃহস্পতিবার লেহ’র ডেপুটি কমিশনার সেই চুক্তি বাতিল করে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, এদিন পর্যন্ত সেখানে কোনও অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠেনি। ওই এলাকা থেকে সমস্ত জিনিসপত্র ও সামগ্রী সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছেন ডেপুটি কমিশনার। যদিও সরকারি এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন লাদাখবাসী। তাদের বক্তব্য, এটা সিদ্ধান্তে শুধু সোনম ওয়াংচুক নয়, গোটা লাদাখের উপরেই হামলা চালানো হয়েছে। টার্গেট করা হয়েছে লেহর স্থানীয় প্রশাসন ও কার্গিল গণতান্ত্রিক জোটকে। তাদের আরও বক্তব্য, লাদাখের মানুষের হয়ে সুর চড়িয়েছিলেন সোনম। তার জন্যই পরিবেশকর্মীকে এই শাস্তি দেওয়া হল। সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রিয়েল লাইফের ‘র্যাঞ্চো’।
২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভেঙে লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই সিদ্ধান্তে বেজায় খুশি হয়েছিলেন ওয়াংচুক সহ অন্যরা। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কেন্দ্রীয় শাসন চলছে। স্থানীয় প্রশাসন নেই। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলেও অমিল গণতান্ত্রিক পরিবেশ। যা নিয়ে ক্রমেই ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। এর পরেই সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের অবসান, রাজ্যের মর্যাদা ও সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলের অধীনে বিশেষ মর্যাদার দাবিতে বড়সড় আন্দোলন দানা বাঁধে। লাদাখের মানুষের প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠেন ওয়াংচুক। শুধু পাহাড়ি প্রদেশই নয়, আন্দোলনকে গোটা দেশের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন অনশনও করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একসময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করা পরিবেশকর্মীর এই ভোলবদল মোটেই ভালোভাবে নেয়নি প্রশাসন। সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলার শাস্তি হিসেবেই তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লিজ বাতিল করে দেওয়া হল। গোটা প্রক্রিয়ায় হতবাক স্বয়ং ওয়াংচুকও। তিনি বলেন, এইচআইএএল একটি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। আমার ব্যক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয় নয়। এই ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চ্যারিটেবল সংস্থা হিসেবেই নথিভুক্ত। তার ভিত্তিতেই জমি লিজ দেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশকর্মী আরও জানিয়েছেন, লাদাখের জলের সমস্যা মেটাতে ‘আইস-স্তূপ’ প্রকল্প ব্যাপক সফল হয়েছিল। তারপরই লাদাখের মানুষজনের উৎসাহ ও সাহায্যে এইচআইএএল তৈরি হয়। ২০১৮ সালে জমির অনুমোদন মিলেছিল। হঠাৎ করেই তা বাতিল করা হল। ওয়াংচুকের দাবি, ইতিমধ্যে ৪০০ পড়ুয়া এখান থেকে পাশ করেছেন। লাদাখের মানুষের স্বার্থরক্ষার দাবি তোলার কারণে এই পদক্ষেপ বলেও মনে করছেন তিনি।