নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকার বদল হতেই শহিদ স্মরণে তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ধর্মতলায় আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিলই। তবে মঞ্চ বাঁধার মাপজোক শুরু করেছিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। কিন্তু মঙ্গলবার সরকারিভাবে লালবাজারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, কোনোরকম জমায়েত করা যাবে না। শুধু তাই নয়, আগামী দু’মাস ধর্মতলার ওই অংশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ নম্বর ধারা লাগু করল কলকাতা পুলিশ। কমিশনার অজয় নন্দার বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মধ্য কলকাতার এই অংশে চারজনের বেশি জমায়েত করলেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লালবাজার জানিয়েছে, ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন চত্বরে সারাবছর ১৬৩ ধারা লাগু থাকে। এই বিজ্ঞপ্তি প্রতি দু’মাস অন্তর পুনর্নবীকরণ করা হয়। অর্থাৎ, মমতাপন্থী হোক বা মমতা বিরোধী, কোনো তৃণমূলই এবার ধর্মতলায় শহিদ তর্পণ করতে পারবে না।
পুলিশ প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি সামনে আসার পর ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের রাস্তার বিকল্প হিসাবে কোন জায়গায় তৃণমূল সভা করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও তৃণমূলের দু’টি শিবিরই জানিয়েছে, ২১ জুলাই সভা তারা করবে। বিকল্প জায়গা বাছাই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে দু’টি শিবিরেই। মমতাপন্থী তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বিজেপি সরকারের পুলিশ দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। যে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে বছরের পর বছর ধরে কর্মসূচি হয়ে আসছে। সেখানে বাধা দেওয়া মানে শহিদের স্মৃতিকে অপমান করা।’
অন্যদিকে, মমতা বিরোধী তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিধায়ক আখরুজ্জমান বলেন, ‘২১ জুলাই সভা আমরা করবই। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে পুলিশ যখন ‘না’ করে দিয়েছে, তখন অন্যত্র কোথায় করা যায়, তা নিয়ে আমরা অবশ্যই আলোচনা করব।’ তবে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবির পুলিশের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘২১ জুলাই পুলিশকে গুলি চালানোর অর্ডার দিয়েছিলেন মণীশ গুপ্ত। পরবর্তী সময়ে তিনিই তৃণমূলের বিধায়ক ও রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরই ২১ জুলাইয়ের শহিদ তর্পণের মাহাত্ম্য শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন তো শুধু নাচগানের অনুষ্ঠান হয় দেখি।’