সংবাদদাতা, ডোমকল: ডোমকলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে দুর্নীতি চক্রের পর্দা ফাঁস। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির স্বামীর গ্রেপ্তারির পর এবার পুলিশের জালে আরও তিন অভিযুক্ত। অভিযোগ, প্রকৃত উপভোক্তাদের বদলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকত চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। তথ্য জালিয়াতি করেই সরকারি প্রকল্পের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হতো বলে অভিযোগ। সেই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এবার তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম মিজানুর রহমান, আলি খুরামি ও সারজেন শেখ। মিজানুরের বাড়ি ডোমকলে হলেও বাকি দুজনের বাড়ি নদীয়া জেলায়। সোমবার রাতে পৃথক পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সপ্তাহ দেড়েক আগে একাধিক উপভোক্তার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাহানা বিশ্বাসের স্বামী শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই উঠে আসে এই তিনজনের নাম। এরপর তাঁদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়। নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতরা কীভাবে এই চক্র চালাত? আর কারা জড়িয়ে রয়েছে? তদন্তের স্বার্থে পুলিশের তরফে এইসমস্ত বিষয়ে কিছু বলা না হলেও পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, ধৃতদের মধ্যে অন্তত একজনের সঙ্গে বিভিন্ন মানবিক প্রকল্পে ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত লোকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। ওই সূত্রের আরও দাবি, চক্রের একজন বছর কয়েক আগে ডেটা এন্ট্রিও করত। এছাড়াও তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সমবায় ব্যাঙ্কের কয়েকজন ম্যানেজারদের যোগাযোগ ছিল। ওই সূত্রের দাবি, টাকার বিনিময়ে ভুয়ো নথি দিয়ে সমবায় ব্যাঙ্কে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে দিত সমবায়ের ম্যানেজাররা। এরপর তথ্য এন্ট্রির সময় প্রকৃত উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে সেই অ্যাকাউন্টগুলির তথ্য যুক্ত করে দেওয়া হতো। ফলে সরকারি নথিতে টাকা উপভোক্তার নামে বরাদ্দ হলেও বাস্তবে তা জমা পড়ত চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা অ্যাকাউন্টে। পরে সেই টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হতো বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই সমবায় ব্যাঙ্কের ম্যানেজারদের গোপনে তদন্তের আওতায় নিয়ে আসার কাজ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে ডোমকল ব্লকের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এরপর ব্লক প্রশাসনের তরফে বিশেষ তদন্ত অভিযান শুরু হয়। তদন্তে উঠে আসে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ একাধিক সামাজিক ভাতা প্রকল্পে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। সেই সময় হাজার হাজার অসঙ্গতিপূর্ণ ও ভুয়ো আবেদনপত্র চিহ্নিত করা হয়। প্রশাসনের দাবি, তদন্তের ভিত্তিতে বিভিন্নভাবে অর্থ উদ্ধার করে গত বছরের শেষদিকেই সরকারি কোষাগারে প্রায় ৫১ লক্ষ টাকারও বেশি ফেরত আনা সম্ভব হয়েছিল। এদিকে রাজ্যে পালাবদলের পরে সরকারি প্রকল্পে এভাবে অর্থ আত্মসাৎ করা নিয়ে সরকার কড়া অবস্থান নিতেই শুরু হয়েছে একের পর গ্রেপ্তারি। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও গভীরে ছড়িয়ে থাকতে পারে। তাই শুধুমাত্র ধৃতদের ভূমিকাই নয়, সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের পুরো নেটওয়ার্কটিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র