Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্য নেতৃত্বের উপর ভরসা নেই, ‘ডেইলি প্যাসেঞ্জার’ বিজেপির দিল্লির নেতারা

নির্বাচনের আবহে জেলায় কার্যত ‘ডেইলি প্যাসেঞ্জারে’ পরিণত হয়েছেন দিল্লির বিজেপি নেতারা। জেলার ছ’টি বিধানসভাকে কেন্দ্র করে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে দল।

রাজ্য নেতৃত্বের উপর ভরসা নেই, ‘ডেইলি প্যাসেঞ্জার’ বিজেপির দিল্লির নেতারা
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: নির্বাচনের আবহে জেলায় কার্যত ‘ডেইলি প্যাসেঞ্জারে’ পরিণত হয়েছেন দিল্লির বিজেপি নেতারা। জেলার ছ’টি বিধানসভাকে কেন্দ্র করে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে দল। এই অবস্থায় ক্রমশই জেলা ও রাজ্যস্তরের নেতৃত্বের উপর অনাস্থার ইঙ্গিত মিলছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

১১ এপ্রিল কুশমণ্ডিতে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার দু’দিন পর ১৪ এপ্রিল গঙ্গারামপুরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অমিত শাহ। ১৬ এপ্রিল বালুরঘাটে সভা করার কথা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার  নিয়মিতভাবে জেলায় প্রচার চালাচ্ছেন। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও জেলায় প্রচারে আসবেন। ছত্তিশগড়ের উপ মুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা থেকে শুরু করে বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ভিনরাজ্যের বহু নেতাদেরও আসা-যাওয়া অব্যাহত।
এই পরিস্থিতিতে বড় বড় জনসভাকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে চাইছে বিজেপি। শুধু নেতাদের উপস্থিতিই নয়, সভার মঞ্চ, সাউন্ড সিস্টেমের মতো পরিকাঠামোও আসছে বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এতে স্পষ্ট যে স্থানীয় নেতৃত্বের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে পারছে না দল।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, জেলার ছ’টি আসনে বিজেপি প্রার্থীদের হয়ে যাঁরা প্রচার করছেন, তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা কমে গিয়েছে। ফলে প্রার্থীদের সামনে রেখেই প্রচার চালাতে হচ্ছে। ভোটারদের আস্থা অর্জন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় জনসভা করে বিপুল ভিড় দেখিয়ে সাইকোলজিকাল অ্যাডভান্টেজ নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। জনসমাগমের মাধ্যমে জেলার রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে, এই বার্তাই তুলে ধরতে চাইছে তারা। অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জেলায় একটি করে সভা করেছেন। তারপর আর বড় কোনো জনসভা হয়নি। 
তৃণমূলের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, বাংলার বিজেপি নেতাদের উপর দিল্লির নেতৃত্বের আস্থা নেই বলেই বাইরে থেকে নেতাদের এনে প্রচার করানো হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যের নেতাদের জেলায় আনাগোনা সেই প্রমাণই দিচ্ছে। তবে, এত কিছুর পরেও ফলাফল ঘোষণার দিনই আসল চিত্র পরিষ্কার হবে।
অন্যদিকে, গঙ্গারামপুরের বিজেপি প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পর অমিত শাহের সভা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জেলার ছ’টি আসনের প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করবেন তৃণমূল নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই বুঝে গিয়েছে, এবারে জেলায় তাদের অবস্থান দুর্বল। তাই নানা মন্তব্য করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ