নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভিন রাজ্যে ক্যাটারিংয়ের কাজের টোপ দিয়ে দেহব্যবসা ও নারী পাচারের অভিযোগে চিৎপুর জিআরপি গ্রেপ্তার করল মা, মেয়ে ও তাদের এক সহযোগী। উদ্ধার করা হয়েছে তিন নাবালিকাকে। তাদের বিহারে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। চক্রের বাকিদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিস।
Advertisement
রেল পুলিসের কাছে খবর আসে, অনন্যা এক্সপ্রেসে করে ওই নাবালিকাদের পাচার করা হচ্ছিল। আরপিএফকে সঙ্গে নিয়ে জিআরপির অফিসাররা ওই ট্রেনে তল্লাশি চালালে এক নাবালিকার সন্ধান পান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে জানা যায় ক্যাটারিংয়ের কাজের জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভিন রাজ্যে। সে তদন্তকারীদের জানায়, কাঁকিনাড়ার বাসিন্দা মৌসুমি বলে একজন তাকে নিয়ে এসেছিল। ওই ‘দিদি’ অন্য একটি ট্রেনে আরও কয়েকজনকে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রেনের নম্বর জোগাড় করে বিষয়টি জানানো হয় বর্ধমান ও আসানসোল জিআরপিকে। ওই ট্রেনটি আসানসোলে ঢোকামাত্র তাতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় আরও দুই নাবালিকাকে। ধরা পড়ে মৌসুমি ও তার সঙ্গী বিবেক।
মৌসুমিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রেল পুলিসের অফিসাররা জানতে পারেন, কাঁকিনাড়া, জগদ্দল, টিটাগড় সহ উত্তর ২৪ পরগনার জুটমিল এলাকাই তাদের টার্গেট। অধিকাংশ জুটমিল বন্ধ হওয়ায় আর্থিক অনটনে ভুগছে পরিবারগুলি। সেইসব পরিবারে গিয়ে নাবালিকা ও তরুণীদের ক্যাটারিংয়ের কাজে যোগ দেওয়ার টোপ দেওয়া হতো। তার আগে পরিবারের সঙ্গে আলাপ জমাত তারা। বলত, বড় বড় ব্যবসায়ী তাদের ‘ক্লায়েন্ট’। তাদের সঙ্গে থাকলে সারাবছর কাজ এবং ভালো পেমেন্ট মিলবে। এই টোপ গিললে তাদের ছবি তোলা হতো। মৌসুমি তদন্তকারীদের জানিয়েছে, তার এক পরিচিতের রিসর্ট রয়েছে বিহারে। ওই রিসর্ট মালিকের সঙ্গে তার দিদির যোগাযোগ আছে। নাবালিকা ও তরুণীদের ছবি দিদির মাধ্যমে যেত রিসর্ট মালিকের কাছে। তিনি ছবি দেখে যাঁদের পছন্দ করতেন, তাঁদের ক্যাটারিংয়ের কাজের নাম করে বিহারে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। মৌসুমির দিদি তাদের ‘রিসিভ’ করে পাঠিয়ে দিত রিসর্টে। এরপর তাদের জোর করে দেহ ব্যবসায় নামানো হতো বলে অভিযোগ। অনেককে আবার বিক্রি করে দেওয়া হতো ভিন রাজ্যে। নারী পাচার করে তারা তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেত। পরিবার খোঁজ করলে বলা হতো, পরপর কাজ থাকায় মেয়েরা এখন ছুটি পাচ্ছে না। তাই আসতে পারছে না। মুখবন্ধ করতে পরিবারকে অল্প কিছু টাকাও দিত অভিযুক্তরা। অভিযুক্ত মহিলা জেরায় জানিয়েছে, সে তার মায়ের ফোন মারফত ছবি পাঠাত। এ সংক্রান্ত কথাও বলত ওই ফোনে। এরপর মৌসুমির মাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তদন্তে জানা গিয়েছে, তারা বছর আড়াই ধরে এই কাজ করছে। এই চক্রে রিসর্ট মালিক ছাড়া আর কারা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।
মৌসুমিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রেল পুলিসের অফিসাররা জানতে পারেন, কাঁকিনাড়া, জগদ্দল, টিটাগড় সহ উত্তর ২৪ পরগনার জুটমিল এলাকাই তাদের টার্গেট। অধিকাংশ জুটমিল বন্ধ হওয়ায় আর্থিক অনটনে ভুগছে পরিবারগুলি। সেইসব পরিবারে গিয়ে নাবালিকা ও তরুণীদের ক্যাটারিংয়ের কাজে যোগ দেওয়ার টোপ দেওয়া হতো। তার আগে পরিবারের সঙ্গে আলাপ জমাত তারা। বলত, বড় বড় ব্যবসায়ী তাদের ‘ক্লায়েন্ট’। তাদের সঙ্গে থাকলে সারাবছর কাজ এবং ভালো পেমেন্ট মিলবে। এই টোপ গিললে তাদের ছবি তোলা হতো। মৌসুমি তদন্তকারীদের জানিয়েছে, তার এক পরিচিতের রিসর্ট রয়েছে বিহারে। ওই রিসর্ট মালিকের সঙ্গে তার দিদির যোগাযোগ আছে। নাবালিকা ও তরুণীদের ছবি দিদির মাধ্যমে যেত রিসর্ট মালিকের কাছে। তিনি ছবি দেখে যাঁদের পছন্দ করতেন, তাঁদের ক্যাটারিংয়ের কাজের নাম করে বিহারে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। মৌসুমির দিদি তাদের ‘রিসিভ’ করে পাঠিয়ে দিত রিসর্টে। এরপর তাদের জোর করে দেহ ব্যবসায় নামানো হতো বলে অভিযোগ। অনেককে আবার বিক্রি করে দেওয়া হতো ভিন রাজ্যে। নারী পাচার করে তারা তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেত। পরিবার খোঁজ করলে বলা হতো, পরপর কাজ থাকায় মেয়েরা এখন ছুটি পাচ্ছে না। তাই আসতে পারছে না। মুখবন্ধ করতে পরিবারকে অল্প কিছু টাকাও দিত অভিযুক্তরা। অভিযুক্ত মহিলা জেরায় জানিয়েছে, সে তার মায়ের ফোন মারফত ছবি পাঠাত। এ সংক্রান্ত কথাও বলত ওই ফোনে। এরপর মৌসুমির মাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তদন্তে জানা গিয়েছে, তারা বছর আড়াই ধরে এই কাজ করছে। এই চক্রে রিসর্ট মালিক ছাড়া আর কারা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।



