নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্যানিংয়ের তফসিলি জাতিভুক্ত এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবককে ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিল আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের নাম আরাফ শেখ ও তাবারক গাজি। শুক্রবার আলিপুরের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক স্মরজিৎ মজুমদার ওই আদেশ দিয়েছেন। সাজার সঙ্গেই ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে অতিরিক্ত ছ’মাসের হাজতবাসের নির্দেশ দেন বিচারক। পাশাপাশি, নির্যাতিতার হাতে তিন লক্ষ টাকা তুলে দেওয়ার জন্য লিগ্যাল এইডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেন তিনি। রায় ঘোষণার আগে অপরাধীরা কম সাজা দেওয়ার জন্য বিচারকের কাজে আর্জি জানায়। মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি স্বাতী সেন আদালতে বলেন, ‘অপরাধীরা যে জঘন্য কাজ করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। তাই তাদের কড়া সাজার দাবি জানাচ্ছি। যাতে কিছুটা হলেও এই ধরনের অপরাধ রোখা সম্ভব হয়।’ তবে সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবী রাণা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আমরা শীঘ্রই কলকাতা হাইকোর্টে যাচ্ছি।’ কোর্টের লকআপে নিয়ে যাওয়ার পথে ওই দুই ধর্ষক দাবি করে, ‘তাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
Advertisement
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানা এলাকায়। গৃহবধূর স্বামী কাজের সূত্রে বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে স্থানীয় দুই যুবক তাঁর বাড়ির গেট ভেঙে ঘরে ঢোকে। এরপর মুখে কাপড় গুঁজে ছয় বছরের ছেলের সামনেই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে ওই দুই যুবক। যাওয়ার সময় দু’হাজার টাকা নির্যাতিতার দিকে ছুড়ে দিয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ার কথা বলে যায় তারা। ‘ঘটনার কথা চাউর হলে পরিণাম ভালো হবে না’ বলে তারা শাসিয়েও যায়। গৃহবধূ চিৎকার করলে অভিযুক্তরা চম্পট দেয়। ঘটনার পরদিন ক্যানিং থানায় গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিস অভিযুক্ত যুবকদের গ্রেপ্তার করে। নির্যাতিতা গৃহবধূ বিচারকের কাছে ‘গোপন জবানবন্দি’ পেশ করেন। তদন্ত শেষ করে পুলিস নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আলিপুর আদালতে চার্জশিট পেশ করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে শুরু হয় মূল মামলার বিচার। সাক্ষ্য দেন মোট ১৩ জন। বিচার চলাকালে আদালতে দুই যুবককে শনাক্ত করেন নির্যাতিতা। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে জেল হেফাজতে রেখেই চলে ধৃতদের বিচার। সমস্ত সাক্ষ্য‑প্রমাণের ভিত্তিতে দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারক এদিন সাজা ঘোষণা করেন।



