


সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: শুরুতেই ধাক্কা। কুশমণ্ডি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘিরে প্রকাশ্যে চলে এল বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। দলের ঘোষিত প্রার্থী তাপস চন্দ্র রায়কে ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন নীচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে বর্ষীয়ান নেতাদের একাংশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, ৬ তারিখের মধ্যে বদল না হলে পাল্টা প্রার্থী দাঁড় করানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা।
দলের অন্দরে এই ‘বিদ্রোহ’-এ অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। শেষ পর্যন্ত রাজ্য নেতৃত্ব এই ক্ষোভ প্রশমনে প্রার্থী বদলের পথে হাঁটে, নাকি কড়া হাতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
এদিন কুশমণ্ডির সদর এলাকায় হাসপাতালের পিছনে জমায়েত হন বিজেপি কর্মী, সমর্থকেরা। বিধানসভার ১১ টি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে এদিন কর্মীরা এসে দলীয় কার্যালয়েও যাননি। তাঁরা গাছতলায় জড়ো হয়ে হাতে গেরুয়া পতাকা ও স্লোগান দিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই প্রার্থী ঘোষণা করেছে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব। তাঁরা যে দলের ঘোষিত প্রার্থীকে সমর্থন করছেন না তা মিটিং ও রেজুলেশনে সই করে সর্বস্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কুশমণ্ডিতে পদ্ম-শিবিরের এই বিদ্রোহ মূলত প্রার্থী বাছাইকে ঘিরেই। বিক্ষুব্ধদের দাবি, তাপসকে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। একইসঙ্গে তাঁদের অভিযোগ, এলাকার একাধিক প্রবীণ ও বর্ষীয়ান নেতা এই প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন। রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের চাপিয়ে দেওয়া এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ বিধানসভার প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের নেতৃত্ব ও কর্মীরা। বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী গৌতম মিশ্র বলেন, দল হঠাৎ করেই তাপস কুমার রায়কে প্রার্থী করল। অথচ কুশমণ্ডিতে কর্মীদের মতামত নেয়নি নেতৃত্ব। দলে অনেক যোগ্য ও বর্ষীয়ান কর্মী রয়েছে। প্রার্থী প্রত্যাহার না করলে পাল্টা প্রার্থী দেব। আমাদের সিদ্ধান্ত দলকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
এদিন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কার্যত চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, অন্য যে কাউকে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হলে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু ৬ তারিখের মধ্যে রাজ্য বা জেলা নেতৃত্ব যদি প্রার্থী বদল না করে, তবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে। কর্মীদের হুঁশিয়ারি, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করা হলে প্রার্থী ঘোষণা করে তাঁকেই জিতিয়ে আনবেন।
বিজেপি মহিলা মোর্চার সম্পাদক প্রতিমা সরকারের ক্ষোভ, দল মাতৃশক্তির কথা বলে, কিন্তু একজনও মহিলা প্রার্থী দিতে পারেনি। এই প্রার্থীকে মানি না।
জেলা বিজেপি সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, দল সবাইকে প্রার্থী করতে পারে না। যাঁরা বিক্ষুব্ধ, সকলেই শেষপর্যন্ত মাঠে নেমে কাজ করবেন।