Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবরোধে রণক্ষেত্র পুরুলিয়ার কোটশিলা, অবশেষে পিছু হটলেন কুড়মিরা, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

আদিবাসী কুড়মি সমাজের ডাকা রেলরোকো কর্মসূচি ঘিরে শনিবার বিকেলে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল পুরুলিয়ার কোটশিলা স্টেশন। অবরোধকারী ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়।

অবরোধে রণক্ষেত্র পুরুলিয়ার কোটশিলা, অবশেষে পিছু হটলেন কুড়মিরা, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: আদিবাসী কুড়মি সমাজের ডাকা রেলরোকো কর্মসূচি ঘিরে শনিবার বিকেলে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল পুরুলিয়ার কোটশিলা স্টেশন। অবরোধকারী ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। দেদার ভাঙচুর চালানো হয় স্টেশনে। প্রথমে অনুরোধ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ-প্রশাসন। তাতে কাজ না হওয়ায় টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটানো হয়। অবরোধকারীরা আরও বেশি মারমুখী হয়ে ওঠে। তখনই পুলিশকে লাঠিপেটা করতে হয়। পাল্টা পাথর ছোড়ে অবরোধকারীরা। দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন জখম হন। শেষ পর্যন্ত কুড়মিসমাজের লোকজন পিঠটান দেন। অবরোধ উঠে যায়। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে। অশান্তি পাকানো, সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে মোট ১২ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে, আদিবাসী কুড়মি সমাজের নেতা অজিত মাহাতকে আটক করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে পুলিশ কিছু বলতে চায়নি।  

Advertisement

পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বেশকিছু লোক বিনা প্ররোচনায় রেল লাইন থেকে পাথর তুলে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে ছুড়তে থাকে। তাতে বেশ কয়েকজন জখম হন। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।’ 
নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে আদিবাসী কুড়মি সমাজ ‘রেল টেকা ও ডহর ছেঁকা’ কর্মসূচির ডাক দেয়। পুজোর মুখে এই কর্মসূচিকে ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়ে প঩ড়ে বিভিন্ন মহলে। রেল ও রাজ্য পুলিশ, প্রশাসনের তরফে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার পরও অবরোধে অনড় থাকে কুড়মিসমাজ। সেই মতো এদিন পুরুলিয়ার একাধিক স্টেশনে আন্দোলনকারীরা জমায়েত হতে শুরু করেন। অবরোধ ঠেকাতে সক্রিয় ছিল পুলিস-প্রশাসনও। স্টেশনে স্টেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বিশাল বাহিনী। ফলে, একমাত্র কোটশিলা ছাড়া অন্য কোথাও কুড়মিসমাজের লোকজনকে তেমন দেখা যায়নি। পরিচিত নেতাদেরও দর্শন মেলেনি কোথাও। 
এদিন, সকাল থেকে কোটশিলা স্টেশনে জমায়েত হতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। প্রথমের দিকে মোটামুটি শান্তই ছিল। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আশপাশের গ্রামে বহু মানুষ কুড়মি সমাজের পতাকা হাতে নিয়ে রেল লাইনে চলে আসে। তাদের সরাতে যেতে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা স্টেশনের সব প্ল্যাটফর্মে শিলাবৃষ্টির মতো পাথর ছুড়তে থাকেন। ভেঙে পড়ে টিকিট কাউন্টার সহ স্টেশনের অফিসের কাচ। পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে। সন্ধ্যার পর লাগোয়া গ্রামগুলিতে পুলিশ অভিযান চালায়। আদিবাসী কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিত মাহাত ও তাঁর ছেলে  বিশ্বজিৎ মাহাতর ফোন বন্ধ। তাই কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা শশাঙ্ক শেখর মাহাতর মোবাইলেরও সুইচ অফ। 
কোটশিলা বাদে জেলার অন্যান্য স্টেশনে কাজকর্ম ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে, ঝাড়খণ্ডে অবরোধ কর্মসূচি খানিকটা সফল হওয়ায় দূরপাল্লার একাধিক ট্রেনকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পুরুলিয়ার কুস্তাউর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়,ট্রেন চলাচলে কোনও বিঘ্ন ঘটেনি। লোকাল ট্রেন থেকে শুরু করে হাওড়া- চক্রধরপুর এক্সপ্রেস,পুরুলিয়াএক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলি অন্যান্য দিনেরমতো স্বাভাবিকভাবেই যাতায়াত করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ