নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মঙ্গলবার গণেশ চর্তুদশী। এবছর জমিদার গণেশের চাহিদা বেশি কুমোরটুলিতে। অধিকাংশ মানুষ কুমোরপাড়ায় এসে জমিদার গণেশেরই খোঁজ করছেন। কিনছেন।মৃৎশিল্পীরা জানান, একেক বছর একেক রকম মূর্তির চাহিদা বেশি থাকে। এবার জমিদার গণেশের চাহিদা বেশি। বহু পুজো উদোক্তা পটুয়াপাড়ায় এসে জমিদার গণেশের বরাত দিয়েছেন। শিল্পীরা সেই মতো তৈরি করছেন। জমিদার গণেশের চেহারা কেমন? কুমোরটুলি ঘুরে দেখা গিয়েছে, রাজ সিংহাসনে আসীন ঝলমলে পোশাকে নানা ধরনের অলঙ্কারে সজ্জিত গণপতিই হলেন জমিদার গণেশ। কোথাও রাজ সিংহাসনে তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে বসে তিনি। সিংহাসনের পিছনে কারুকার্য। ফুল বা লতাপাতা, বা অন্যান্য ছবি শোভা পাচ্ছে। মূর্তির উচ্চতা ১০ থেকে ১৪ ফুট।
কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সমিতির কর্মকর্তারা বলেন, কলকাতা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে বহু মানুষ এসে গণেশের বায়না দিয়েছেন। শনিবার বহু পুজো উদ্যোক্তা কুমোরটুলি থেকে ঢাউস আকারের গণেশ কিনে প্যান্ডেলে নিয়ে গিয়েছেন। বহু মানুষ এদিন এসেছিলেন গণেশ কিনতে। মৃৎশিল্পী জবা পাল বলেন, ‘যেহেতু গণেশ চর্তুদর্শী এসে গিয়েছে তাই অনেকে ঠাকুর কিনতে এসেছেন। অন্য বছরের তুলনায় এবার গণেশের বিক্রি ভালো। যা তৈরি করা হয়েছিল তার বেশিরভাগ বিক্রি হয়ে গিয়েছে। রবিবারও বাজার ভালো পাওয়া যাবে বলে আমাদের আশা।’ শিল্পী বরুণ পাল বলেন, ‘এবার বিভিন্ন মাপের গণেশের বায়না পেয়েছি। আমরা খুশি। সমস্ত প্রতিমার তৈরির কাজ ঠিক মতো শেষ করতে পেরেছি। জলবৃষ্টির কারণে আমরা কিছুটা চিন্তার মধ্যে ছিলাম।’ শিল্পী সমর পাল বলেন, ‘এবার বড়ো এবং ছোটো জমিদার গণেশ তৈরি করেছি। অধিকাংশই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। আটটি বড়ো প্রতিমার মধ্যে তিনটি চলে গিয়েছে। সোমবার বাকি ঠাকুর চলে যাবে মণ্ডপে।’ পটুয়াপাড়ার এখন চরম ব্যস্ততা। তার মাঝেই এদিন অলি গলি ঘুরে দেখা গিয়েছে বহু তরুণ‑তরুণী গণেশের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন। গণেশের কাজ শেষের পর আবার দুর্গা তৈরির কাজে হাত পড়বে। তার মাঝে আছে বিশ্বকর্মা। সেই কাজও চলছে।