Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভারত ছাড়ো আন্দোলনের নীরব সাক্ষী কুমারগ্রাম থানা

ব্রিটিশ আমলের বহু স্মৃতি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনন্য ইতিহাস বুকে আগলে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম থানা। এটি কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কেন্দ্র নয় বরং স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে এক গভীর আবেগ ও ঐতিহাসিক গৌরবের প্রতীক।

ভারত ছাড়ো আন্দোলনের নীরব সাক্ষী কুমারগ্রাম থানা
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাবুল সরকার, কুমারগ্রাম: ব্রিটিশ আমলের বহু স্মৃতি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনন্য ইতিহাস বুকে আগলে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম থানা। এটি কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কেন্দ্র নয় বরং স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে এক গভীর আবেগ ও ঐতিহাসিক গৌরবের প্রতীক। সম্প্রতি এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী থানাটিকে সরকারিভাবে ‘হেরিটেজ থানা’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের বহু স্মৃতি কুমারগ্রাম থানার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৪২ সালের ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর স্মৃতি। তৎকালীন সময়ে অঞ্চলের অকুতোভয় স্বাধীনতা সংগ্রামীরা একজোটে ব্রিটিশ প্রশাসনের এই পুলিশ স্টেশনটি দখল করে নিয়েছিলেন।

Advertisement

থানা দখলের ছক কষা হয়েছিল মঘা দাস দেওয়ানির বাড়িতে। তবে তিনি নিজে অসুস্থ থাকায় আন্দোলনে উপস্থিত থাকতে পারেন নি। যদিও দেবেন্দ্রনাথ দাস রাভা, কালীপ্রসন্ন দাস, ভৈব্যনাথ দাস, মতিলাল সরকার, দেওয়ান রায়, পোয়াতু বর্মন, যোগেন নার্জিনারি, স্বর্ণমোহন পণ্ডিতের মতো আরও বহু মানুষের প্রচেষ্টায় থানা দখল সার্থক হয়। পরাধীনতার প্রতীক ব্রিটিশ পতাকা (ইউনিয়ন জ্যাক) নামিয়ে সেখানে সগৌরবে উত্তোলন করা হয়েছিল ভারতের জাতীয় পতাকা। সেই ঐতিহাসিক ক্ষণ থেকেই কুমারগ্রাম থানা স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়।
​কুমারগ্রামের বাসিন্দাদের মতে, এর ঐতিহাসিক পরিচয় সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত ও দৃশ্যমান রাখা হোক। ‘হেরিটেজ’ তকমা পেলে অঞ্চলটিতে গবেষক ও ইতিহাসপ্রেমী পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাবে। ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ভবনটির মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা।​কুমারগ্রামবাসীর আবেগ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিবেচনা করে রাজ্য সরকার ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ দ্রুত এই থানাকে হেরিটেজ স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ