গত বছর পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়ের ছবি ঘিরে পরিচালকদের সংগঠন ও ফেডারেশনের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়। তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হয়। ফের এ বছরের শুরু থেকে দ্বন্দ্ব বেঁধেছিল দুই সংগঠনের মধ্যে। অভিযোগ ওঠে, পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের আসন্ন সিরিজ ও শ্রীজিৎ রায়ের আসন্ন ধারাবাহিকের কাজে সহযোগিতা করছেন না টেকনিশিয়ানরা। শুক্রবার এই দুই প্রজেক্টের প্রযোজকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ইন্দ্রনীল সেন। বৈঠকের পর জট কাটার ইঙ্গিত মিলল। ইন্দ্রনীল বলেন, ‘কাজ হচ্ছে। আগামী দিনেও সুষ্ঠুভাবে কাজ হবে। এই আশা আমরা রাখি।’ অরূপ বলেন, ‘এটা আমাদের একান্নবর্তী পরিবার। আমরা সকলে সমস্যা মিটিয়ে কাজ করতে চাই।’ তাঁরা জানান, ৩৭টি ফ্লোরের মধ্যে ২৯টি ফ্লোরে শুক্রবার সুষ্ঠুভাবে কাজ হয়েছে। এদিন রাতে ডিরেক্টরস গিল্ডের তরফে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুদেষ্ণা রায়, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী, জয়দীপ, শ্রীজিৎ, মানসী সিনহা প্রমুখ। বৈঠকের পর পরিচালকদের সংগঠনের তরফে জানানো হয়, রাজ্যের দুই মন্ত্রীর কথা শুনে তাঁরা প্রত্যাহার তুলে নিচ্ছেন। শীঘ্রই শ্যুটিংয়ে ফিরবেন।
Advertisement
গত বৃহস্পতিবার বৈঠকের পর পরিচালকদের সংগঠন জানিয়েছিল, শ্যুটিং ফ্লোর থেকে তাঁরা নিজেদের প্রত্যাহার করছেন। শুক্রবার সকালে মিশ্র চিত্র দেখা যায় স্টুডিও পাড়ায়। কোথাও পরিচালকের অনুপস্থিতির জেরে শ্যুটিং ফ্লোরে তালা ঝুলেছে। কয়েক জায়গায় পরিচালকের দায়িত্ব সামলেছেন সহকারীরা। অনেকক্ষেত্রে সকালের শ্যুটিং শুরু হয়েছে বিকেলে। এদিন স্নেহাশিস চক্রবর্তী, রাজ চক্রবর্তী ও অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার কাজ বন্ধ ছিল। সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল ‘গৃহপ্রবেশ’, ‘জগদ্ধাত্রী’, ‘গীতা এলএলবি’র মতো ধারাবাহিকের কাজ। এদিন বিকেলের পর ‘নিম ফুলের মধু’, ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকের কাজ শুরু হয়। নীলাঞ্জনা সেনগুপ্ত প্রযোজিত ‘আনন্দী’ ধারাবাহিকের কাজও বন্ধ ছিল। যদিও প্রযোজনা সংস্থার তরফে জানানো হয়, মুখ্য অভিনেতার অসুস্থতার কারণে কাজ বন্ধ ছিল। ফেডারেশনকে এই মর্মে ইমেলও করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে সংস্থার তরফে। এদিন সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়ের ‘কিলবিল সোসাইটি’ ছবির শ্যুটিং হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এদিন সকালে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে পৌঁছে যান ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। বলেন, ‘আমরা ধর্মঘট ডাকিনি। আমরা যদি ধর্মঘট ডাকি তাহলে ইন্ডাস্ট্রিতে একটা পাতাও নড়বে না। ২৮টা গিল্ড ধর্মঘট ডাকলে ইন্ডাস্ট্রি অচল হবে। টেকনিশিয়ানরা প্রতিদিনের হিসেবে টাকা পান। তাই একদিন কাজ না হওয়া মানে টেকনিশিয়ানদের বড় ক্ষতি।’ কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের কোনও সমস্যা নেই বলেও জানিয়েছেন স্বরূপ।



