সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথির শৌলা খালের মোহনা মজে গিয়ে ট্রলার-লঞ্চ-নৌকো চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। অবিলম্বে ড্রেজিংয়ের দাবি তুললেন শৌলা মৎস্য আহরণ কেন্দ্রের মৎস্যজীবীরা। এই দাবিতে সম্প্রতি শৌলা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন পক্ষ থেকে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের তরফে শৌলা মৎস্য আহরণ কেন্দ্রে জেটি নির্মাণ, বরফ কারখানা, জ্বালানি তেলের পাম্প, মিনি মার্কেট বা বিপণন কেন্দ্র তৈরির দাবিও তোলা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বছরের পর বছর পলি পড়তে পড়তে মোহনার কাছে বিরাট অংশজুড়ে চড়া পড়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়াতেই এই পরিস্থিতি। এর ফলে ট্রলার-লঞ্চ-নৌকো ইত্যাদি চড়ায় ধাক্কা খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জোয়ারের সময়ে কোনওভাবে ট্রলার-লঞ্চ-নৌকো যাতায়াত করতে পারলেও ভাটার সময় আটকেই থাকতে হচ্ছে। অবিলম্বে ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন। এখানে মাত্র একটি জেটি রয়েছে। তবে সেই জেটিটি বহু পুরনো এবং ভগ্নপ্রায়। এর ফলে বরফ ও মাছ ওঠাতে নামাতে খুবই সমস্যা হয়। নতুন একটি জেটির প্রয়োজন রয়েছে। শৌলায় আইস ফ্যাক্টরি না থাকায় কাঁথি শহর থেকে বরফ এনে মাছ সংরক্ষণ করা হয়। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ খরচ হয়। নির্দিষ্ট বিপণন কেন্দ্র না থাকায় উৎপাদিত মাছ বিক্রির জন্য সেই গাড়িতে করে ৩০ কিলোমিটার দূরে দীঘা মোহনায় নিয়ে যেতে হয়। এতে মৎস্যজীবী, ট্রলার-লঞ্চের মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এছাড়া পাম্প না থাকায় তাঁদের নানা দিক দিয়ে সমস্যা হয়। রয়েছে আরও সমস্যা। শৌলা এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ অনন্য। এখান থেকেই মেরিন ড্রাইভ শুরু হয়েছে। শৌলাকে ঘিরে পর্যটন প্রকল্প গড়ার দাবিও অনেকদিনের। কিন্তু তাও আজ অবধি বাস্তবায়িত হয়নি।
Advertisement
শৌলা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সত্যেন্দ্রনাথ সামন্ত ও সভাপতি অরুণ জানা বলেন, আজ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বহু নেতা-মন্ত্রী জনপ্রতিনিধি শৌলায় আসছেন। শৌলাকে নিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিন্তু কোনওটাই বাস্তবায়িত হয়নি। শৌলাকে দুয়োরানি করে রাখা হয়েছে। অবিলম্বে এই দাবিগুলি পূরণ করা হোক, এটাই আমাদের দাবি। এবিষয়ে জেলা সহ মৎস্য অধিকর্তা (সামুদ্রিক) সুমন সাহা বলেন, শৌলা মৎস্য আহরণ কেন্দ্রের সমস্যাগুলি সম্পর্কে আমরা অবগত। সংস্থার তরফে আমাদের কাছে দাবিপত্র পেশ করলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তা পৌঁছে দেব।



