সংবাদদাতা, কাঁথি: ছ’ বছরের শিশুপুত্রকে বেধড়ক মারধর করে রাতে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মা ও সৎ বাবার বিরুদ্ধে। বুধবার শিশুটির মা ও সৎ বাবাকে ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠালেন কাঁথি মহকুমা আদালতের বিচারক। মঙ্গলবারই ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। তাদের বিরুদ্ধে মারধর, খুনের চেষ্টা ও জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টে মামলা রুজু করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম মামণি গিরি ও শুকদেব মণ্ডল। বাড়ি যথাক্রমে রামনগরের দামোদরপুর ও উত্তর হলদিয়া এলাকায়। এদিকে শিশুটি রামনগরের বালিসাইয়ের বড়রাঙ্কুয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সে এখনও যথেষ্ট আতঙ্কিত রয়েছে। সুস্থ হলে তাকে হোমে পাঠানো হবে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিস। বিয়ের পর দু’জনে নির্বিঘ্নে সংসার করার বাসনায় ‘পথের কাঁটা’ সরাতেই এই অত্যাচার, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। ডিএসপি (ডি অ্যান্ড টি) আবু নুর হোসেন বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটির মা মামণির এটা তৃতীয় বিয়ে। শিশুটির প্রকৃত বাবা অর্থাৎ মামণির দ্বিতীয় স্বামী কার্তিক গিরি বছর পাঁচেক আগে মারা যান। এরপর গ্রামেই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছিল মামণি। আড়াই মাস আগে প্রেম করে উত্তর হলদিয়ার শুকদেবকে বিয়ে করে সে। শুকদেব শারীরিক প্রতিবন্ধী। ঠিকমতো হাঁটতে পারে না। বিয়ের পর থেকেই শিশুটির সঙ্গে অমানবিক অত্যাচার শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মামণি ছেলেকে সবসময়ে মারধর করত। নানাভাবে ভয় দেখাত। এমনকী তাকে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। তাতে ইন্ধন দিত শুকদেব। সোমবার রাতে শিশুটিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপর শীতের রাতে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পানের বরোজ সংলগ্ন স্থানে সারারাত ধরে ছিল শিশুটি। প্রচণ্ড ঠান্ডায় সারারাত ফাঁকা মাঠে কাটানোর পর মঙ্গলবার ভোরের দিকে কোনওরকমে স্থানীয় খালপাড়ে একটি বাড়িতে পৌঁছয় সে। শিশুটির হাতে-পায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে শিউরে ওঠেন ওই বাড়ির বাসিন্দারা। ঘটনার কথা চাউর হতেই স্থানীয়রা সেখানে দৌড়ে আসেন। থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিস এলাকায় গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। শিশুটি সামান্য সুস্থ হতেই তার বয়ান শুনে চমকে ওঠেন স্থানীয় লোকজন এবং পুলিস। যে বাড়িতে গিয়ে শিশুটি উঠেছিল, সেই পরিবারের সদস্য দীপ পাত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস এলাকায় গিয়ে অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। তার আগে তাদের উত্তম-মধ্যম দেন স্থানীয় লোকজন। অভিযুক্তরা শিশুটিকে মারধর করার কথা স্বীকার করে নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ছেলেকে মারধর করার পর সে ছুটে পালিয়ে যায়। আর বাড়ি ফেরেনি। রাতে তাকে অনেক খুঁজেও পাওয়া যায়নি। দীপবাবু বলেন, পুলিসকে ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আর্জি জানানো হয়েছে।



