Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁথির শৌলায় আবর্জনার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট গড়তে বাধা, ছড়াল উত্তেজনা

কাঁথির শৌলায় আবর্জনার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট গড়তে বাধা, ছড়াল উত্তেজনা
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথি পুরসভার সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের জন্য সমুদ্র-তীরবর্তী শৌলা লাগোয়া শেরপুর-জালপাই এলাকায় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরিতে উদ্যোগী পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। শনিবার সেই কাজে এলাকার বাসিন্দাদের বাধাদান ও বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন প্রকল্প এলাকায় যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রায় ৪০০ মিটার কংক্রিটের রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদার সংস্থার প্রতিনিধিদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। উভয়পক্ষের বাগবিতণ্ডায় উত্তেজনা ছড়ায়। জুনপুট কোস্টাল থানার পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। শেষ পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়াররা ও ঠিকাদারি সংস্থার লোকজন কাজ অসমাপ্ত রেখে ফিরে যান।
Advertisement
কাঁথি শহরের সমস্ত আবর্জনা এই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে আনার কথা। এলাকার মানুষের অভিযোগ, এখানে প্রকল্প গড়ে উঠলে আবর্জনার পাহাড় জমবে। তা থেকে দুর্গন্ধ ও দূষণ ছড়াবে। তাছাড়া, প্রকল্প গড়ার আগে এলাকার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তমলুক বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নান্টু দাস বলেন, এখানে যে ডাম্পিং গ্রাউন্ড নয়, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি হবে। সেটা এলাকার মানুষকে কোনওভাবেই বোঝানো গেল না। আমরা অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির কাজে বাধা পেয়ে ফিরে এসেছি। মহকুমা শাসক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সবকিছু জানিয়েছি। যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তাঁরাই নেবেন।
অনেক আগে থেকেই শৌলায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প  গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল কাঁথি পুরসভা। ঠিক ছিল, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর প্রকল্প গড়ে তুলবে। স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি(সুডা) তা রূপায়ণ করবে। এজন্য প্রায় সাত একর জমি চিহ্নিত ও অধিগ্রহণ করা হয়। পুরো প্রকল্প গড়ে তুলতে কয়েক কোটি টাকা খরচ হবে। সম্প্রতি সেই প্রকল্পে অনুমোদন আসে। প্রাথমিকভাবে মেরিন ড্রাইভ রাস্তা পর্যন্ত অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির প্রয়োজন ছিল। এজন্য ৪১লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। এদিন রাস্তা তৈরির প্রাথমিক কাজের জন্য শ্রমিক ও আর্থমুভার নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়রা কাজে বাধা দেন। এলাকার বাসিন্দা অরুণ জানা বলেন, স্থানীয় মানুষ এনিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তারা আগে আলোচনায় বসতে চাইছে। শৌলা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সত্যেন্দ্রনাথ সামন্ত বলেন, এখানে প্রচুর মৎস্যজীবী আসা-যাওয়া করেন। আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে তাঁরাও সমস্যায় পড়বেন। তবে আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
নগরোন্নয়ন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এখানে বড় মাপের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট গড়ার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এনিয়ে বাসিন্দাদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। ৬ জানুয়ারি এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মহকুমা শাসকের অফিসে আলোচনার জন্য ডাকাও হয়েছিল। কিন্তু কেউ যোগ দেননি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ