Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁথির কানাইচট্টা সৈকতে মারা পড়ছে লাল কাঁকড়া, বাইকের দাপট রুখতে মরিয়া প্রশাসন

কাঁথির কানাইচট্টা সৈকতে মারা পড়ছে লাল কাঁকড়া, বাইকের দাপট রুখতে মরিয়া প্রশাসন
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের দারিয়াপুর পঞ্চায়েতের কানাইচট্টা সমুদ্র সৈকতের তটভূমিতে বাইকের দাপাদাপি বন্ধ করতে উদ্যোগী হচ্ছে প্রশাসন। সংলগ্ন ঝাউবনে পিকনিকও বন্ধ করা হবে। খুব শীঘ্রই এবিষয়ে সতর্কীকরণ বোর্ড লাগিয়ে প্রচার চালানো হবে বলে জানিয়েছেন বিডিও শুভাশিস মজুমদার।
Advertisement
নতুন সৈকত হিসেবে নজর কাড়ছে কানাইচট্টা। এখানে দিগন্তবিস্তৃত বালুতট যেমন রয়েছে, তেমনই সৈকতে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার মেলা বসে যায়। যেন কেউ লাল কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছে। সমুদ্রতীরে প্রচুর গাছগাছালি ও ছোট ছোট পুকুর রয়েছে। সেখানে সবসময় পাখিদের কলকাকলিতে ভরে ওঠে। শুধু তাই নয়, কানাইচট্টার প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এখানে সরকারি উদ্যোগে একটি গেস্টহাউস গড়ে উঠেছে। গড়ে উঠেছে তাঁবু পর্যটন কেন্দ্রও।  তাঁরা এখানে অনেকটা সময় কাটাচ্ছেন, অনেকে রাত্রিবাসও করছেন। এমনিতেই গাছগাছালিতে ভরা কানাইচট্টার প্রাকৃতিক পরিবেশ অনন্য। তাই ধীরে ধীরে পর্যটন তথা ভ্রমণপিপাসু মানুষজনের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে কানাইচট্টা। আর এই আবহেই আগের চেয়ে কানাইচট্টা এলাকায় পর্যটক তথা ভ্রমণপিপাসু মানুষজনের আনাগোনা বাড়ছে। 
ভ্রমণপিপাসুদের একাংশ সরাসরি বাইক নিয়ে সৈকতে নেমে যাচ্ছেন। সৈকতজুড়ে বাইকের দাপাদাপি চলছে। এতে সৈকতের বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হচ্ছে। প্রচুর লাল কাঁকড়া মারা পড়ছে। শুধু তাই নয়, ঝাউবনে পিকনিক করছেন অনেকে। মানুষের আনাগোনা, হাঁটাচলা এবং আগুন জ্বালানোর কারণে গাছপালা তো ক্ষতি হচ্ছেই। পিকনিকের পর মানুষজন সেখানে পলিথিন ক্যারিব্যাগ সহ থার্মোকলের সামগ্রী, মদের বোতল ফেলে দিয়ে যান। সেগুলি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে। এর ফলে পরিবেশ দূষণ এবং দৃশ্যদূষণ দুটোই হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনেকে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে পিকনিক করেন। এর ফলে এলাকায় শব্দদূষণ হয়। পাখিদের বসবাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। এসব বন্ধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 
স্থানীয় বাসিন্দা সূর্যনারায়ণ জানা বলেন, কানাইচট্টার সমুদ্র সৈকতকে পর্যটকরা পছন্দ করছেন। তাই ভিড় দিন দিন বাড়ছে। এখানে সৈকতে গাড়ি যথেচ্ছভাবে চলছে। পিকনিক করতে এসে ঝাউবন অনেকে নোংরাও করছেন। এসব বন্ধ করতে বেশকিছু পদক্ষেপ করা উচিত। এবিষয়ে আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। তবে কানাইচট্টা যাওয়ার রাস্তাটি এখনও মোরামের রয়ে গিয়েছে। সেই রাস্তাটি পাকা করার আর্জিও প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে। 
বিডিও বলেন, কানাইচট্টা সৈকতে খুব শীঘ্রই সতর্কীকরণ বোর্ড লাগাব আমরা। কড়া পদক্ষেপ না নিলে সৈকত রক্ষা করা যাবে না। এছাড়া কানাইচট্টায় রাস্তাটি পাকা করারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কানাইচট্টাকে ঘিরে আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ