নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কাঁথি-৩ ব্লকে এসবিআইয়ের কুমিরদা সিএসপিতে লক্ষ লক্ষ টাকা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠল। ফিক্সড ডিপোজিট এবং মান্থলি ইনকাম স্কিমে মোটা সুদের টোপ দিয়ে চিটফান্ডের কায়দায় ওই সিএসপি চালানো হয়েছিল। লোভের বশে কেউ কেউ সম্পত্তি বিক্রি করে মোটা টাকা এমআইএস স্কিম করেছিলেন। তারপর আচমকাই সিএসপির ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়। ১১জানুয়ারি ওই সিএসপির তিনজন সঞ্চালকের বিরুদ্ধে মারিশদা থানায় এফআইআর হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
Advertisement
স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার নাচিন্দা শাখার অধীনে ওই সিএসপি কাউন্টার চলত। কুমিরদা বাজারের পশ্চিম দিকে বলরাম বেরার বাড়ি ভাড়া দিয়ে প্রায় ছ’-সাত বছর ধরে ওই কাউন্টার চলত। কুমিরদা গ্রামের সুজাতা দাস স্বামী মারা যাওয়ার পর বাপেরবাড়ি থেকে পাওয়া সম্পত্তি বিক্রি করে মোট ১০লক্ষ টাকা ওই সিএসপিতে এমআইএস স্কিমে রেখেছিলেন। তাঁর সমূহ টাকা লোপাট হয়ে গিয়েছে। কুমিরদা গ্রামের শম্ভু কর দু’লক্ষ টাকা, সুশান্ত দাস পাঁচ লক্ষ টাকা, স্থানীয় বড়নাওয়াই গ্রামের সত্যরঞ্জন মণ্ডল এক লক্ষ টাকা রেখেছিলেন। একটি সংস্থা ওই সিএসপি কাউন্টার চালানোর লাইসেন্স পেয়েছিল। ওই সংস্থার মধ্যস্থতায় শম্ভুবাবু, সুশান্তবাবু ও সত্যরঞ্জনবাবু সহ মোট ১১জনকে ৫লক্ষ ৬৫হাজার টাকা ফেরানো হয়েছে। তাঁরা এফডি এবং এমআইএস স্কিমে জমা রাখা অর্থরাশির অর্ধেক ফেরত পেয়েছেন। তবে প্রতারিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৮০জন। তাঁদের অধিকাংশই কোনও টাকা ফেরত পাননি।কুমিরদা গ্রামের দিনমজুর মেঘনাদ ভুঁইয়া মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো টাকা রেখেছিলেন। এছাড়াও আর এক দিনমজুর কানাই মণ্ডল তাঁর কষ্টার্জিত টাকা ওই সিএসপি কাউন্টারে রেখে ঠকেছেন। তবে সুজাতা দাস সবচেয়ে বেশি ১০লক্ষ টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। কুমিরদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রভাতী দাসের স্বামী রবীন্দ্রনাথ দাস এবিষয়ে বেশ কয়েকবার প্রতারিতদের নিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সিএসপির লাইসেন্স পাওয়া সংস্থার সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। কিন্তু প্রতারিত অনেকেই টাকা পাননি।সিএসপির লাইসেন্স পাওয়া সংস্থার পক্ষ থেকে খেজুরি থানার দক্ষিণ কলমদান গ্রামের বাসিন্দা সূর্যকান্ত গিরি তিনজন সঞ্চালকের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন। ওই তিন সঞ্চালক সিএসপি চালাতেন। তাঁরাই ফিক্সড ডিপোজিট এবং এমআইএস স্কিমে বেশি সুদের লোভ দিয়ে এলাকা থেকে টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি সামনে আসতেই ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে ওই সিএসপি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা টাকা খুইয়েছেন তাঁরা এখন ওই অর্থ ফেরতের দাবি তুলেছেন। পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন, প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। কয়েকজনকে জমা রাখা টাকার অর্ধেক ফেরানো হয়েছে। তবে বেশিরভাগই এখনও টাকা ফেরত পাননি।
অভিযোগকারী সূর্যকান্ত গিরি বলেন, আমরা ওই সিএসপি চালাতাম। সেখানে তিনজন সঞ্চালক রাখা হয়েছিল। তাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এনিয়ে মারিশদা থানায় এফআইআর করেছি। সেইসঙ্গে ওই কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখনও পর্যন্ত ১১জনের নথি পেয়েছি। সেই ১১জনকে টাকা ফেরানো হয়েছে।
অভিযোগকারী সূর্যকান্ত গিরি বলেন, আমরা ওই সিএসপি চালাতাম। সেখানে তিনজন সঞ্চালক রাখা হয়েছিল। তাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এনিয়ে মারিশদা থানায় এফআইআর করেছি। সেইসঙ্গে ওই কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখনও পর্যন্ত ১১জনের নথি পেয়েছি। সেই ১১জনকে টাকা ফেরানো হয়েছে।



