নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কোনও সন্দেহ নেই তিনি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেটা ছিল ভারতীয় অর্থনীতির অন্যতম সঙ্কটকাল। ২০১৮ সালে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর পদের দায়িত্ব নেওয়ার সময় মোদি সরকারের সবথেকে খামখেয়ালি পদক্ষেপ, নোট বাতিলের জেরে গ্রামীণ অর্থনীতি প্রায় তলানিতে। হাজার হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেই প্রবল ধাক্কা সামলানোর আগেই ২০২০ সালে এসেছিল কোভিড এবং লকডাউন। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর পদ থেকে বিদায় নেওয়ার দিন মঙ্গলবার শক্তিকান্ত দাস মোদি সরকারকে কার্যত মনে করিয়ে দিলেন সেই কথাই। তিনি এদিন বিদায় ভাষণে বলেন, আমরা যে সময় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দায়িত্বে এসেছিলাম এবং যে সময় আমাদের কাটাতে হয়েছে, সেটা ছিল এক চরম টালমাটাল সময়। তিনি সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, তাঁর নেতৃত্বে আরবিআই টিম যথেষ্ট সাফল্যের সঙ্গে অর্থনীতিকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালেও ২০১৮ সালে তাঁকে এই পদে বসানোর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব অর্পণ করেছেন অরুণ জেটলিকে। বলেছেন, আমাকে এই পদে বসার যোগ্য মনে করেছিলেন জেটলি। সেই কারণে তাঁর প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে উপকার করেছেন বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি সবথেকে বেশি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নিজের টিমকে। বিগত দেড় বছর ধরে মূল্যবৃদ্ধি এবং রেপো রেট নিয়ে এই টিমের সঙ্গেই মোদি সরকারের প্রবল মতান্তর হয়েছে। শক্তিকান্ত দাস এবং তাঁর নীতি নির্ধারণ কমিটির ৫ জন সদস্য সরকারের শত পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশিকায় নত হয়নি। বারবার ঘোষণা করেছে, মূল্যবৃদ্ধি উদ্বেগজনক। পক্ষান্তরে সরকার বলেছে, মূল্যবৃদ্ধি নেই। এই মতানৈক্য যখন চরমে উঠেছে, সেই সময়ই অবসর নিলেন শক্তিকান্ত। তাঁকে আর এক্সটেনশন দেওয়া হল না।



