নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কথা রাখল সরকার। কথা রাখল স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ও। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন অভয়া আন্দোলনকারীরা। সেইমতো পরীক্ষার ‘লাইভ স্ট্রিমিং’-এর প্রস্তাব রেখেছিল স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়। ডাক্তারি ছাত্রছাত্রীদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এমডি-এমএসের ফাইনাল পরীক্ষায় সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত করল তারা। টোকাটুকি, প্রশ্নফাঁস ছাড়াই পরীক্ষার প্রথম দিন কাটল নির্বিঘ্নে। সোমবার কলকাতা, দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। মোট কথা, পরীক্ষা ব্যবস্থা ‘স্বচ্ছ’ করার যে চ্যালেঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েছিল, সেই অ্যাসিড টেস্টে প্রথম দিন লেটার মার্কস পেয়েই উত্তীর্ণ হল তারা। রাজ্যের একাধিক মেডিক্যাল কলেজ সূত্রের খবর, পরীক্ষার্থীদের হলে ঢোকার আগে দেহ তল্লাশি, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেকিং করা হয়। পরীক্ষার শুরুর আধঘণ্টা আগে দু’টি কোড নম্বর দিয়ে প্রশ্নপত্র খোলা, পরিদর্শককে প্রশ্নপত্র হস্তান্তর করা, পরীক্ষার হলে নিয়ে যাওয়া, প্রশ্নপত্র খুলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করা, পরিদর্শক এবং সেন্টার ইন চার্জের সইয়ের পর উত্তরপত্র সিল করা, ট্রাঙ্কে ভরা, ডিজিটাল লক দিয়ে লক করা—সবটাই হয়েছে সিসি ক্যামেরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইভ স্ট্রিমিং-এর নজরদারিতে। এছাড়াও কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজে পরীক্ষাপদ্ধতির ভিডিও রেকর্ডিংও হয়েছে।
Advertisement
সবমিলিয়ে কড়াকড়িতে অত্যন্ত খুশি সিনিয়র-জুনিয়র নির্বিশেষে সব ধরনের চিকিৎসকরা। প্রথম দিন নির্বিঘ্নে হওয়ায় অত্যন্ত খুশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। বডি ফ্রিসকিং বা দেহ তল্লাশির মতো কড়াকড়িতে আপত্তি করেননি পরীক্ষার্থীরাও। সবদিক থেকে সহযোগিতা করেন তাঁরা। সামগ্রিক ব্যবস্থায় খুশি তাঁরাও। পরবর্তী পরীক্ষা আছে বুধবার।



