সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেতুগ্রামের ইক্ষুগ্রহণ কেন্দ্র কুড়ি বছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। বেহাল ভগ্নপ্রায় চেহারায় পড়ে রয়েছে ইক্ষুগ্রহণ কেন্দ্রের অফিস। রাজ্য সরকারের অধীনে রাজ্য চিনি শিল্প উন্নয়ন নিগমের আওতায় থাকা ইক্ষুগ্রহণ কেন্দ্রের জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। পুনরায় চিনি শিল্প উজ্জীবিত হোক, ইক্ষুগ্রহণ কেন্দ্রে কর্মব্যস্ততা শুরু হোক, চাইছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা। তাতে আবার বেকার যুবকরা কাজ পাবেন।
Advertisement
কেতুগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ বিশ্বাস বলেন, ইক্ষুগ্রহণ কেন্দ্রের অনেকটা জায়গা পড়ে রয়েছে। আমাদের দাবি, ওই জায়গায় অন্তত একটা বৈদ্যুতিক চুল্লি গড়ে উঠলে বহু মানুষের উপকার হবে। এরজন্য আমরা রাজ্য চিনি শিল্প উন্নয়ন নিগমের ডিরেক্টরকে চিঠি দিয়েছি। আর শিল্প চালু হলে তো ভালোই হবে। রাজ্যজুড়ে ছয়ের দশক থেকে প্রচুর আখ উৎপাদন হতো। রাজ্যজুড়ে চিনি শিল্পে একটা সময় কার্যত বিপ্লব এসেছিল। রাজ্যের নদীয়ার পলাশী, বীরভূমের আমোদপুরে গড়ে উঠেছিল সুগার মিল। তখনি রাজ্য সরকার রাজ্য চিনি শিল্প উন্নয়ন নিগম গঠন করে মিল পরিচালনার ভার দেয় নানা বেসরকারি সংস্থাকে। ধীরে ধীরে সব কালের অতলে হারিয়ে যায়। ভাগীরথীর পাড় লাগোয়া কেতুগ্রাম-২ ব্লকের সীতাহাটি পঞ্চায়েতের উদ্ধারণপুরে গড়ে উঠেছিল ইক্ষুগ্রহণ কেন্দ্রটি। বীরভূমের আমোদপুর চিনিকল ইউনিটের অধীনে কাজ করা হতো। আসলে মূল ইউনিট আমোদপুরে থাকলেও ইক্ষুগ্রহণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল পলাশী সহ বেশ কয়েক জায়গায়। ভাগীরথীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় আখ চাষের রমরমা ছিল। তাই জলপথে পরিবহণের সুবিধার্থে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে ইক্ষুগ্রহণ কেন্দ্রে আখ কেনা হতো সরাসরি। তারপর সেখান থেকে ট্রাকে চাপিয়ে আখ আমোদপুরে চিনি কলে চলে যেত। ইক্ষুগ্রহণ কেন্দ্রেও বহু মানুষ কাজ করতেন। কেতুগ্রামের ইক্ষুগ্রহণ কেন্দ্রের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী শ্যামল মণ্ডল চান শিল্প চালু হোক। তিনি বলেন, এখানে প্রায় ৭-৮ জন কাজ করতেন। সে সময়ে রাজ্য সরকার চাষিদের ঋণ দিত। আমাদের এখানে আশেপাশের ৪-৫টি অঞ্চলের চাষিদের কাছ থেকে আখ কেনা হতো। নতুনগ্রাম, সুজাপুর, কাঁধখালি, কমলাবাড়ি, জুরানপুর সেন্টার থেকেও আখ আসত। ২০০৫ সাল থেকে ইক্ষুগ্রহণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। জানা গিয়েছে, কেতুগ্রামের সেন্টারটি প্রায় ১ একর ২৭ শতক জায়গায় গড়ে উঠেছিল। এরমধ্যেই রয়েছে অফিস ঘর। বর্তমানে অফিস ঘর কঙ্কালসার চেহারায় পরিণত হয়েছে। ঘরের দরজা জানালা উধাও। পরিত্যক্ত জায়গা সাপ, কুকুরের আবাসস্থল হয়ে উঠেছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের একাংশ বলছেন, সুজাপুরের চাষিরা এখনও আখ চাষের উপরেই জোর দেন। তাই সেখানে অনেক গুড় তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন। এদিকে বর্তমানে রাজ্য সরকারকে ভিনরাজ্য থেকে চিনি আনতে হয়। রাজ্যে ফের চিনিকল গড়ে উঠলে ভিনরাজ্যের উপর নির্ভরশীলতা কমবে। বহু বেকারের কর্মসংস্থান হবে।



