Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেতুগ্রামে জুনিয়র হাইস্কুলে একজন শিক্ষক, নিয়মিত ক্লাস নেন শিক্ষাকর্মী

কেতুগ্রামে জুনিয়র হাইস্কুলে একজন শিক্ষক, নিয়মিত ক্লাস নেন শিক্ষাকর্মী
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: তিনি স্কুলের শিক্ষাকর্মী। ঘণ্টা বাজানো থেকে স্কুল খোলা তাঁর কাজ। কিন্তু তাঁকে চক-ডাস্টার হাতে নিয়মিত ক্লাস নিতে হয়। পড়ুয়াদের অঙ্ক থেকে বাংলা সবই পড়াতে হয় তাঁকে। কেতুগ্রামের নতুনগ্রাম জুনিয়র হাইস্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক থাকায় ওই গ্রুপ-ডি কর্মী ক্লাস নেন। স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন অভিভাবকরা। 
Advertisement
কেতুগ্রাম-২ ব্লকের মৌগ্রাম পঞ্চায়েতের নতুনগ্রাম যেতে গেলে রীতিমতো কালঘাম ছোটে বাসিন্দাদের। গ্রামের বাইরে গেলেই দু’-দুটো নদী পার হতে হয়। বাবলা ও ভাগীরথী নদী পার হলে তবেই বাসিন্দারা কাটোয়া শহরে আসতে পারেন। নদীঘেরা গ্রামটি ভাঙন কবলিত। প্রতিনিয়ত ভাঙনে জেরবার হতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ২০১০সালে বহু কষ্টে গ্রামে জুনিয়র হাইস্কুলটি তৈরি করা হয়েছে। দোতলা ভবনে মোট সাতটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। গ্রামে কোনও উচ্চ বিদ্যালয় নেই। অষ্টম শ্রেণির পর বাবলা নদী পার হয়ে চার কিলোমিটার দূরে মৌগ্রাম স্কুলে পড়তে হয় পড়ুয়াদের। গ্রামের জুনিয়র হাইস্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১৪৪ জন পড়ুয়া রয়েছে।  স্কুলটি ২০১০ সালের ১০ মার্চ চালু হয়। শুরুর দিকে অতিথি শিক্ষক থাকলেও পরে স্থায়ী শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে একজন টিচার ইনচার্জ রয়েছেন। একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী রয়েছেন। টিচার ইনচার্জকে প্রায়শই স্কুলের অফিশিয়াল কাজে এখানে ওখানে ছুটতে হয়। তাই নিয়মিত ক্লাস নিতে হয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মী জয়কৃষ্ণ প্রধানকে। জয়কৃষ্ণবাবু বলেন, একজন শিক্ষকের দ্বারা সব ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই আমাকেও ক্লাস নিতে হয়। আমার কাজ করে বাকি সময়ে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির ক্লাস নিই। 
অভিভাবক আকাই শেখ, আব্দুল হান্নান বলেন, বর্ষাকালে নদী পেরিয়ে দূরের স্কুলে যেতে অসুবিধা হয়। ছেলেমেয়েরা যাতে শিক্ষালাভের সুযোগ পায় সেজন্য বহু কষ্টে গ্রামে স্কুল হয়েছে। কিন্তু সেই স্কুলও শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে। প্রশাসন নজর দিলে আগামী দিনে গ্রামের স্কুলটি মাধ্যমিক পর্যন্ত হবে। আমাদের ছেলেমেয়েদের আর নদী পার হয়ে পড়তে যেতে হবে না। 
স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি নিয়ামল বসির বলেন, এক-একটা ঘরে দু’টি করে শ্রেণির ক্লাস নিতে হয়। একজন শিক্ষকের দ্বারা কখনোই সব ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়। সেকারণে আমরা গ্রামের সবাই মিলে ওই কর্মীকে ক্লাস নিতে অনুরোধ করেছিলাম। স্কুলের টিচার ইনচার্জ মণিশঙ্কর নস্কর বলেন, আমরা শিক্ষক পাঠানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাছাড়া ওই চতুর্থ শ্রেণির কর্মীকে দিয়ে ক্লাস করানো ছাড়া উপায় নেই। কেতুগ্রাম চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক কুন্তল দত্ত বলেন, ওই স্কুলে পাঁচজন শিক্ষকের পদ রয়েছে। তারমধ্যে চারজন আগেই বদলি নিয়ে চলে গিয়েছেন। সম্প্রতি দু’জন শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে একজন জয়েন করবেন না বলে জানিয়েছেন। আরেকজন খুব শীঘ্রই স্কুলে যোগদান করবেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ