Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোটি কোটি টাকার টোল আদায়, তবুও হয়নি রাস্তা সংস্কার, ক্ষুব্ধ নলহাটির মানুষ

কোটি কোটি টাকার টোল আদায়, তবুও হয়নি রাস্তা সংস্কার, ক্ষুব্ধ নলহাটির মানুষ
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পিচ, পাথর উঠে গিয়ে কয়েকবছর আগেই মোরাম বেরিয়ে পড়েছে। বর্তমানে খানাখন্দে ভরে গিয়েছে গোটা রাস্তা। যাতায়াতই এই এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিক পরিমাণে পাথর বোঝাই লরি, ডাম্পার চলাচলের জন্য রাস্তার এই হাল হয়েছে। তেমনি ধুলো দূষণে জেরবার এলাকার মানুষ। তেমনি প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, মারাও যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাস্তার উপর টোল বসিয়ে মাসে কোটি কোটি টাকা আয় করছে জেলা পরিষদ। অথচ দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে নলহাটি থেকে বাহাদুরপুর যাওয়ার রাস্তাটি সারাইয়ের নামগন্ধ নেই। স্বভাবতই চলাচলের অযোগ্য এই রাস্তা নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়ছে। 
Advertisement
নলহাটি ১ ব্লক অফিসের সামনে দিয়ে চলে গিয়েছে বাহাদুরপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিমি রাস্তা। বাহাদুরপুরে পাথর শিল্পাঞ্চল রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে আমলাই, হরিওকা, কুসুমজলি, ছিলিমপুর সহ বহু গ্রাম যাওয়া যায়। এই এলাকার মানুষদের ব্লক, বিএলএলআরও, হাসপাতাল, থানা, বাজার সহ বিভিন্ন কাজে নলহাটি শহরে আসা যাওয়া করতে হয়। এছাড়া সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে নিত্য যাতায়াতের পথ বলতে এটিই। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থা হলেও প্রশাসন উদাসীন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়রা বলেন, বাহাদুরপুরে পাথর শিল্পাঞ্চল রয়েছে। এখানকার পাথর দিয়ে বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ঝাঁ চকচকে রাস্তা হচ্ছে। অথচ এখানকার রাস্তাই বেহাল। তাঁরা বলেন, অনবরত পাথর বোঝাই যানবাহন চলাচলের ফলেই এই অবস্থা হয়েছে। 
অন্যদিকে, এলাকার বাসিন্দা বিসমিল্লা শেখ বলেন, রামপুরহাট, মল্লারপুর, মুরারই সহ এই জেলার পশ্চিমাংশ জুড়ে পাথর বলয়। প্রচুর ক্র্যাশার খাদান রয়েছে। সেখানকার রাস্তা তো ভালো। সেখানকার মতো এখানেও ভারী যানবাহন ক্ষমতা সইতে পারে এমন গুণগত মানের রাস্তা করা হোক। ভুক্তভোগী মানুষজন বলছেন, বর্ষায় এই রাস্তা এতটাই বেহাল হয়ে পড়ে যে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আসতে চায় না। এই সময় খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকি হয়ে পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, জেলা পরিষদ এই রাস্তায় টোল বসিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। অথচ রাস্তাটি মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে না। 
রাজনৈতিক কোনও কারণও থাকার কথা নয়। এই এলাকাগুলি থেকে তৃণমূল বরাবর লিড পেয়ে আসছে। এর আগে বহুবার রাস্তা সংস্কারের দাবিতে পথ অবরোধ করে আন্দোলন করা হয়েছে। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া কিছুই মিলছে না। 
মানুষের সমস্যা স্বীকার করে নলহাটি ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আশাদুজ্জামান বলেন, রাস্তাটি জেলা পরিষদের। তারাই পাথর বোঝাই যানবাহন থেকে টোল আদায় করে। সুতরাং রাস্তাটি তাদেরই সংস্কার করা উচিত। আমরা সেব্যাপারে প্রস্তাব পাঠাব। অন্যদিকে এলাকার বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং বলেন, এই রাস্তায় এত ভারী যানবাহনের চাপ যে, কোনওদিনই তা ঠিক হবে না। বহুবার রাস্তাটির সংস্কার চেয়ে জেলা পরিষদে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। 
এব্যাপারে জেলা পরিষদের পুর্ত কর্মাধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম বলেন, ওই রাস্তাটি যে একদমই সারাই করা হয়নি, তা নয়। কিন্তু সংস্কার হওয়ার পরে রাস্তাটির যে বিশ্রাম দরকার, সেটা ওখানে হচ্ছে না। তবে পঞ্চায়েত সমিতি বা ওখানকার জেলা পরিষদের সদস্য যদি আমাদের চিঠি দেন, তাহলে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামতের কাজ করে দেব। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ