সংবাদদাতা, কাটোয়া: বৃহস্পতিবার দুপুরে কাটোয়ার কুরচি গ্রামে ইটবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে টোটোর মুখোমুখি সংঘর্ষ হল। কাটোয়া-মালডাঙা রোডে এই দুর্ঘটনায় ট্রাক্টরটি টোটোর উপর উঠে যায়। টোটোচালকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম নাড়ু দাস(৬০)। তাঁর বাড়ি সিঙ্গি গ্রামের দাসপাড়ায়। ঘটনায় তিন মহিলা জখম হয়েছেন। তাঁরা টোটোয় চেপে পাঁজোয়া গ্রাম থেকে গৌরডাঙা গ্রামে যাচ্ছিলেন। তাঁদের কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিস ইটবোঝাই ট্রাক্টরটি আটক করেছে। চালক পলাতক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। টোটোচালক নাড়ুবাবু ওষুধ কিনতে মেঝিয়ারি গিয়েছিলেন। ফেরার পথে পাঁজোয়া থেকে তিনজন যাত্রী টোটোয় ওঠেন। তাঁরা গৌরডাঙা যাচ্ছিলেন। পাঁজোয়া থেকে টোটো কাটোয়া-মালডাঙা রোড ধরে কুরচি মোড়ে যেতেই উল্টোদিক থেকে ইটবোঝাই ট্রাক্টরটি দ্রুতগতিতে চলে আসে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক্টরটি টোটোর উপর উঠে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা চালক সহ চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসক টোটোচালককে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রাক্টরটি আটকে রেখে পুলিসকে খবর দেন। পরে কাটোয়া থানার পুলিস সেখানে যায়। টোটোর যাত্রী শান্তি পাল বলেন, ট্রাক্টরটি দ্রুতগতিতে এসে সোজা আমাদের টোটোর উপরে উঠে পড়ে। তারপর আর কিছু মনে নেই। নাড়ুবাবুর মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন। তাঁর দুই ছেলে। ছোট ছেলে বিজয় দাস বলেন, বাবার শরীর খারাপ ছিল। তাই ওষুধ কিনতে বেরিয়েছিল। কিন্তু রাস্তায় ভাড়া পেয়ে বাবা টোটো নিয়ে গৌরডাঙা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, কাটোয়াজুড়ে বেপোরোয়া ট্রাক্টরের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে ট্রাক্টরগুলি চলাচল করে। সেকারণে বারবার এরকম দুর্ঘটনা ঘটছে। পুলিস কড়া ব্যবস্থা নিক।



