চণ্ডীগড়: সংসদে তখন চলছে সংবিধান নিয়ে আলোচনা। ঠিক সেই সময় কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ অভিযান ঠেকাতে জল কামান, কাঁদানে গ্যাস চালাল পুলিস। আরও স্পষ্ট করে বললে, বিজেপি শাসিত হরিয়ানা সরকারের পুলিস। শনিবার আরও একবার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ হরিয়ানার শম্ভু সীমানায় অবরুদ্ধ হল কৃষকদের ‘জাঠা’। ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টির দাবিতে সরব ‘অন্নদাতা’দের আরও একবার কণ্ঠরোধ করা হল। শম্ভু সীমানায় তৈরি হল ধন্ধুমার পরিস্থিতি। পুলিসের জল কামান ও কাঁদানে গ্যাসে জখম অন্তত ১৭ জন কৃষক। হরিয়ানা পুলিসের বাধায় চলতি মাসে এই নিয়ে তৃতীয়বার স্থগিত হয়ে গেল কৃষকদের এই কর্মসূচি। যদিও আগামী দিনে আন্দোলন আরও জোরালো করার ডাক দিয়েছেন কৃষক নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের। আগামী ১৬ ডিসেম্বর ট্রাক্টর মিছিল ও ১৮ ডিসেম্বর হবে ‘রেল রোকো’।
Advertisement
পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানার ঢোকার পথে শম্ভু ও খানৌরি সীমানায় গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ধর্না চালাচ্ছেন কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ, ফসলের দামের আইনি গ্যারান্টি সহ বিভিন্ন দাবিতে কেন্দ্রের মোদি সরকার কান দিচ্ছে না। ফেব্রুয়ারি থেকে আলোচনাও বন্ধ। সেই সূত্রেই আন্দোলনকারী কৃষকদের ১০১ জন প্রতিনিধি দিল্লি যাওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন। এজন্য শম্ভু সীমানায় বিশাল ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে হরিয়ানা পুলিস। চলতি মাসের ৬ ও ৮ তারিখও ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচি শম্ভু সীমানায় অবরুদ্ধ হয়েছিল। এদিন ফের একই চিত্র। শুরু থেকেই কার্যত ‘যুদ্ধে’র প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় পুলিস-প্রশাসনকে। সকাল ছ’টা থেকে আম্বালার একটা অংশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিসের শীর্ষস্তর থেকে কৃষকদের বলা হয়, দিল্লি থেকে উপযুক্ত অনুমতি না নিলে মিছিল এগতে দেওয়া হবে না। পাল্টা কৃষক নেতারা বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে বদ্ধপরিকর। মিছিল শুরু হতেই পুলিস কড়া পদক্ষেপ নেয়। কৃষক নেতা তেজবীর সিংয়ের অভিযোগ, এলোপাথাড়ি কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়েছে। অন্য এক কৃষক নেতা সারওয়ান সিং পান্ধেরের দাবি, পুলিসের নির্যাতনে ১৭ জন কৃষক জখম হয়েছেন। অনেকের অবস্থা গুরুতর। কিন্তু হাসপাতালে তাঁদের উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা পর্যন্ত করা হচ্ছে না। ভারত পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি। অথচ সেই দেশের সরকার ১০১ জন কৃষকের বিরুদ্ধ বলপ্রয়োগ করছে। জলে রাসায়নিক মিছিয়ে কামান দাগছে, বোমা ছুড়ছে, কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাচ্ছে। শুধু সরকার নয়, চলতি অধিবেশনে বিরোধীরাও সংসদে কৃষকদের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে গলা ফাটাচ্ছে না। তারা শুধু বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব সারছে।



