Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

কৃষকদের দিল্লি অভিযানে ফের ধুন্ধুমার, কাঁদানে গ্যাসে অসুস্থ  ৯ অন্দোলনকারী

কৃষকদের দিল্লি অভিযানে ফের ধুন্ধুমার, কাঁদানে গ্যাসে অসুস্থ  ৯ অন্দোলনকারী
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
শম্ভু সীমানা (নয়াদিল্লি): সাড়া দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। তাই পূর্ব ঘোষণা মতোই রবিবার দুপুরে ফের দিল্লি অভিযান শুরু করেন কৃষকরা। তাঁদের সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল শম্ভু সীমানা। পদযাত্রা ঠেকাতে আগে থেকেই বহুস্তরীয় ব্যারিকেড বসিয়েছিল হরিয়ানা পুলিস। কৃষকদের মিছিল আটকাতে শুক্রবারের মতো রবিবারও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। ছিল জলকামানও। দু’পক্ষের সংঘাতে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় অন্তত ন’জন কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয়। তারপরই এদিনের মতো দিল্লি অভিযান স্থগিত করেছেন কৃষক নেতারা। তবে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, কৃষক আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা তৈরি করতে আজ, সোমবার জরুরি বৈঠকে বসছেন আন্দোলনকারীরা। প্রয়োজনে জঙ্গি আন্দোলনের মাধ্যমে দিল্লিতে ঢোকার পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। পাশাপাশি সংযুক্ত কিষান মোর্চা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কৃষকদের উপর আর একবারও লাঠি, কাঁদানে গ্যাস চললে দেশের প্রত্যেক সীমানা এলাকায় অবস্থান বিক্ষোভ হবে, তা সামলাতে পারবে না সরকার। মোর্চার অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশে কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েতকে যোগীরাজ্যের পুলিস গৃহবন্দি করে রেখেছে। অন্যদিকে, শম্ভু সীমানায় কৃষক নেতা এস এস পান্ধেরের অভিযোগ, রবিবার আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিস যে ফুলের পাপড়ি ছুড়েছে, তাতে রাসায়নিক মেশানো ছিল। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রবিবার শুধু কাঁদানে গ্যাস, লাঠি নয়, রাবার বুলেট ছুঁড়েছে হরিয়ানার পুলিস। 
ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি), কৃষি ঋণ মকুব, পেনশনের ব্যবস্থা এবং বিদ্যুতের বিল না-বাড়ানোর মতো বেশ কয়েকটি দাবি করে আসছেন কৃষকরা। কিন্তু, তাতে ভ্রূক্ষেপ করছে না মোদি সরকার। তাই দাবি আদায়ে দিল্লি অভিযোনের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এদিন কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর কয়েক মিটার যেতেই তাঁদের পথ আটকায় হরিয়ানা পুলিস। তখনই প্রাথমিক বচসা শুরু হয়। পুলিসের দাবি, জাঠাতে ১০১ জন কৃষকের পদযাত্রা করে দিল্লি অভিযানের কথা ছিল। কর্মসূচি শুরুর পর সেই তালিকা অনুযায়ী নাম মেলানোর জন্য আন্দোলনকারীদের আটকানো হয়। কিন্তু, তাঁরা পরিচয়পত্র দেখাতে চাইছিলেন না। কৃষকদের পাল্টা দাবি, পুলিস কোন তালিকা থেকে নাম মেলাচ্ছিল, তা জানি না। তাও আমরা বলি, নাম মেলানো হলে কি যেতে দেবেন? তারপরই আমাদের কাছে অভিযানের প্রশাসনিক অনুমতি দেখতে চাওয়া হয়। এই নিয়ে বচসা বাঁধে। তখন কোনও প্ররোচনা ছাড়াই কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ব্যবহার করা হয়েছিল। এদিন পুলিস যে এসব ‘হাতিয়ার’ ব্যবহার করতে পারে, তা আগাম আঁচ করতে পেরেছিলেন আন্দোলনকারীরা। তাই বিশেষ ধরনের চশমা, মাস্ক পরেছিলেন তাঁরা। তা সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিন সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সংবাদমাধ্যমকেও বেশ কিছুটা দূরে আটকে দেওয়া হয়। এব্যাপারে পাঞ্জাব সরকারকে বিশেষ অনুরোধ করেছিল হরিয়ানা। 
সম্পর্কিত সংবাদ