Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

কৃষক আন্দোলন আটকাতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ হরিয়ানা পুলিসের

কৃষক আন্দোলন আটকাতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ হরিয়ানা পুলিসের
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যকে (এমএসপি) আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবিতে কৃষকদের আন্দোলনে বিজেপি সরকারের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা ছিলই। শুক্রবার সেটিই সত্যি প্রমাণ হল। আন্দোলনকারী কৃষকদের দিল্লি চলো অভিযান আটকাতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ল হরিয়ানা পুলিস। শুধু তাই নয়, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে মুহুর্মুহু লাঠি চার্জ করা হল। রাস্তায় একের পর এক কাঁটাতার ফেলে পথ রোধ করার চেষ্টাও হল। কার্যত একতলা বাড়ি সমান ব্যারিকেড তুলে দেওয়া হল আন্দোলনকারীদের যাত্রাপথে। বিক্ষোভরত চাষিদের দিল্লি প্রবেশ ঠেকাতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেনি হরিয়ানা পুলিস। আন্দোলনকারীদের পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমানা ছেড়ে নড়তেই দেওয়া হল না। তাঁদের টেনেহিঁচড়ে পুলিসের বাসে তুলে আটক করা হল। সবমিলিয়ে শুক্রবার কৃষকদের দিল্লি চলো অভিযান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বাঁধল পাঞ্জাব-হরিয়ানার শম্ভু সীমানায়। 
Advertisement
যদিও নিজের অবস্থান থেকে একবিন্দু সরেননি আন্দোলনকারী কৃষকরা। দিনের শেষে তাঁরা জানিয়েছেন, বিজেপি সরকারের চাপের কাছে মাথা নোয়াব না। আমরা দিল্লি প্রবেশ করবই। এদিন বিকেলে শম্ভু সীমানায় কিষান মজদুর মোর্চার (কেএমএম) শীর্ষ নেতা এস এস পান্ধের দাবি করেছেন, পুলিস যেভাবে তাঁদের উপর চড়াও হয়েছে, তাতে অন্তত ছ’জন আন্দোলনকারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। তিনি বলেন, দিল্লি চলো কর্মসূচি থেকে আমরা সরছি না। সরকার নাকি আমাদের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। আমরা সেইমতো শনিবার সরকারের জন্য অপেক্ষা করব। নাহলে রবিবার আবারও আমাদের দিল্লি চলো অভিযান শুরু হবে। এর পরবর্তী যেকোনও পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবে। বিজেপি সরকারের তুমুল সমালোচনা করে কৃষক নেতারা বলেন, আমরা যেন আন্তর্জাতিক জঙ্গি। আমরা এই দেশেরই নাগরিক। এই দেশের জন্য আমাদের অবদানও কিছু কম নয়। কৃষকদের এহেন কড়া হুঁশিয়ারি পর অবশ্য সুর কিছুটা নরম করেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। কারণ এদিন সংসদ ভবন চত্বরে কেন্দ্রীয় কৃষি রাষ্ট্রমন্ত্রী ভগীরথ চৌধুরী বলেন, কৃষকরা আমার ভাইয়ের মতো। তাঁদের সঙ্গে আলোচনার রাস্তা সবসময়ই খোলা। তাঁরা এখানে এসে কথা বলতে পারেন। অথবা আমরাও যেতে পারি। 
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পাঞ্জাব-হরিয়ানার শম্ভু এবং খানাউরি সীমানায় অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। ১৩ ফেব্রুয়ারি এবং ২১ ফেব্রুয়ারি - দু’দফায় তাঁদের দিল্লি চলো ঘিরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় শুক্রবারও। দফায় দফায় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিস। কাঁটাতার উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন কৃষকরা। একতলা বাড়ি সমান ব্যারিকেডের মাথায় উঠে যান তাঁরা। গার্ডরেলের ব্যারিকেড ঠেলে সরিয়ে দেওয়া হয়। ধ্বস্তাধ্বস্তি শুরু হয় পুলিসের সঙ্গে। পাল্টা লাঠি চালায় পুলিসও। তুলকালাম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হরিয়ানার একাংশে ইন্টারনেট এবং এসএমএস পরিষেবা ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ছুটি হয়ে গিয়েছে সব স্কুলও।
দিল্লির দিকে অগ্রসর হওয়া কৃষকদের মিছিল আটকে গিয়েছে ব্যারিকেডের সামনে। শুক্রবার শম্ভু সীমানায়। (ইনসেটে) কাঁদানে গ্যাসের সেল ফেটে জখম বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পিটিআই
সম্পর্কিত সংবাদ