শোভন চন্দ, কলকাতা: অঙ্ক-বিজ্ঞানের ভিড়ে শুরু থেকেই কোণঠাসা ইতিহাস। সিলেবাসের কৃপায় সাদা পাতায় কালো অক্ষর পড়ে ওই টুকিটাকি তথ্য জানা যায়। কারও কাছে আবার কোনওরকমে মুখস্থ করে পাশ নম্বর তোলাই লক্ষ্য। সত্যি বলতে কী তথ্য জানা যায় বটে, তবে তা অনুভব করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা বোধহয় এখনও নেই! আচ্ছা যদি এক মুহূর্তের জন্য ছুঁয়ে দেখা যায় ক্ষুদিরামের নামে জারি হওয়া হুলিয়া? কিংবা সহজ-সরল ছবির মধ্য দিয়ে বিপ্লবীদের সময়কালে পৌঁছে যাওয়া যায়? এবার কলকাতা বইমেলায় রয়েছে সেই সুযোগ। বেশ কয়েকটি প্রকাশনী একটু অন্যপথে হেঁটেছে। ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখার ব্যবস্থা করেছে বর্তমান প্রজন্মের জন্য। আর তাই বইমেলার চতুর্থ দিনে সেই সব বই কিনতে পাঠকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।
Advertisement
সল্টলেক করুণাময়ীতে বইমেলার এক নম্বর গেট দিয়ে ঢুকেই কলেজপাড়া প্রকাশনী স্টল। সামনে বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে। পাশ দিয়ে যেতে যেতেই কানে এল একজনের গলা— ‘দাদা, একটা কালী মায়ের বোমা হবে?’ ওপারের জবাব আরও সরেস, ‘দাঁড়াও ক্ষুদিরামের ওয়ারন্টের কাগজটা মুড়ে দিই।’ হাল্কা উঁকি দিতে. চোখে পড়ল স্টলের সামনে একে একে সাজানো রয়েছে ক্ষুদিরামের নামে হুলিয়া জারির কাগজ, দিল্লির বোমা হামলার পর রাসবিহারী বসুর মাথার দামের ঘোষণাপত্র। অনেকেই অবাক চোখে তাকিয়ে। স্টলে গিয়ে জানা গেল, গতবার এদের বই ‘বাংলার তন্ত্র ও কলকাতার বিপ্লব’ সাড়া ফেলে দিয়েছিল। এবার প্রকাশিত হয়েছে তারই আগের পর্ব... ‘কালী মায়ের বোমা’। বইতে রয়েছে চন্দননগরের অস্ত্রাগার, বোমা তৈরির ইতিহাস, বোমার এই অদ্ভুত নামকরণের আশ্চর্য সব গল্প। বাড়তি পাওনা বইয়ের ভিতরের কিউ আরকোড, যা স্ক্যান করে একাধিক তথ্যসূত্র সম্পর্কে জানতে পারবেন পাঠকরা। করা যাবে ইতিহাসের ‘ভার্চুয়াল ট্যুর’। আর সঙ্গে মিলছে নানা সংগ্রহশালা থেকে জোগাড় করা ওই সময়ের কাগজপত্রের প্রতিলিপি।
স্টলের ধার দিয়ে সোজা হেঁটে বইমেলার একেবারে অন্যপ্রান্তে ৯ নম্বর গেট। তার একেবারে কাছেই ৫৫৯ নম্বর স্টল। হাতেখড়ি প্রকাশনীর এবারের উদ্যোগ ইতিহাসে হাতেখড়ি। দেশের ভাষা, খেলাধুলো থেকে শুরু করে দেশভাগের ইতিহাস, নদীপথে বাণিজ্য, যুদ্ধসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে মোট ন’টি বইতে। সঙ্গে রয়েছে তুলির টানে সহজ-সরলভাবে তুলে ধরা হয়েছে ইতিহাস। একটু দূরে ৫৬৫ নম্বরে লালমাটি প্রকাশনী। স্টলে সাজানো রয়েছে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস সমৃদ্ধ বই। বাঁদিক খানিক দূরেই এক বৃদ্ধা বসে একমনে উল্টে দেখছেন বিন্দুবিসর্গ প্রকাশনা থেকে সদ্য কেনা ‘নীলাচল রথযাত্রার ইতিহাস ও মাহাত্ম্য’। ছোট্ট নাতির বায়না, ‘ঠাম্মি, তোমার বইটা পড়ব না। আমার কিন্তু আর একটা চাই!’
স্টলের ধার দিয়ে সোজা হেঁটে বইমেলার একেবারে অন্যপ্রান্তে ৯ নম্বর গেট। তার একেবারে কাছেই ৫৫৯ নম্বর স্টল। হাতেখড়ি প্রকাশনীর এবারের উদ্যোগ ইতিহাসে হাতেখড়ি। দেশের ভাষা, খেলাধুলো থেকে শুরু করে দেশভাগের ইতিহাস, নদীপথে বাণিজ্য, যুদ্ধসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে মোট ন’টি বইতে। সঙ্গে রয়েছে তুলির টানে সহজ-সরলভাবে তুলে ধরা হয়েছে ইতিহাস। একটু দূরে ৫৬৫ নম্বরে লালমাটি প্রকাশনী। স্টলে সাজানো রয়েছে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস সমৃদ্ধ বই। বাঁদিক খানিক দূরেই এক বৃদ্ধা বসে একমনে উল্টে দেখছেন বিন্দুবিসর্গ প্রকাশনা থেকে সদ্য কেনা ‘নীলাচল রথযাত্রার ইতিহাস ও মাহাত্ম্য’। ছোট্ট নাতির বায়না, ‘ঠাম্মি, তোমার বইটা পড়ব না। আমার কিন্তু আর একটা চাই!’



