নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: কেশপুরে গ্রামীণ হাসপাতালে বাড়ছে বেডের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দিয়ে ঘাটাল লোকসভার সাংসদ দেবকে একথা জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে খুশি কেশপুরবাসী। জানা গিয়েছে, আগে কেশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ৩০টি বেড ছিল। ফলে সমস্যায় পড়তে হতো রোগী ও পরিজনদের। বড় দুর্ঘটনা ঘটলে সমস্যা আরও বাড়ত। সেই কথা মাথায় রেখেই ৫০টি বেড করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে খরচ হবে প্রায় ২৪কোটি টাকা। একইসঙ্গে আনন্দপুর গ্রামীণ হাসপাতালেও বেডের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এর সুবিধা পাবে কয়েকশো গ্রামের মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী সাংসদ দেবকে জানিয়েছেন, আরও উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উন্নয়নের বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে আনার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মেদিনীপুরের সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। মানুষকে উন্নতমানের পরিষেবা দেওয়া আমাদের প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে নানা উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বাম আমলে কেশপুর ব্লকের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা ছিল। সামান্য পরিষেবাটুকু পেতেন না সাধারণ মানুষ। তখন কেশপুরজুড়ে রাজনৈতিক হানাহানি লেগেই থাকত। তবে ২০১৬ সালের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী কেশপুর গ্রামীণ হাসপাতালের উন্নয়নের নির্দেশ দেন। সেইমতো আগের তুলনায় পরিষেবাগত উন্নতি হয়েছে। কেশপুরের এক বাসিন্দার কথায়, আগে সামান্য কেটে গেলেও পরিষেবা মিলত না। রেফার করে দেওয়া হতো। বেডের সংখ্যা খুবই কম ছিল। বর্তমানে পরিষেবার উন্নতি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে ওষুধ পাচ্ছেন। এছাড়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। একইসঙ্গে মানুষের কথা মাথায় রেখে কোভিড ওয়ার্ড করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রুটিন ব্লাড টেস্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করেন। বাম আমলে মানুষ সামান্য স্বাস্থ্য পরিষেবাটুকু পেতেন না। এখন কেশপুরের মানুষ বিনামূল্যে ওষুধ পাচ্ছেন। এছাড়া স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। কেশপুরের আরেক বাসিন্দা সন্দীপ রায় বলেন, এই এলাকার মানুষের অনেক দিনের দাবি পূরণ হচ্ছে। আগে বেডের অভাবে রোগীদের রেফার করা হতো। বেড বাড়ায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপর থেকে চাপ কমবে।



