Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

কাশ্মীরের হস্তশিল্প ‘পেপার ম্যাশি’   পাড়ি দিচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়

কাশ্মীরের হস্তশিল্প ‘পেপার ম্যাশি’   পাড়ি দিচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: বিশ্বজুড়ে কদর বেড়েছে কাশ্মীরের হস্তশিল্পের। তারমধ্যে অন্যতম হল ‘পেপার ম্যাশি’। এশিয়া, ইউরোপ হয়ে উত্তর আমেরিকা, যার চাহিদা আজ তুঙ্গে। চোদ্দ শতকের ইসলামি সাধক মীর সৈয়দ আলি হামদানি পারস্য থেকে প্রথম কাশ্মীরে নিয়ে আসেন এই শিল্পকর্ম। মূলত পুনর্ব্যবহৃত কাগজ থেকে তা তৈরি করা হয়ে থাকে। প্রথমে কাগজ, আঠা এবং জল মিশিয়ে এক ধরনের মন্ড তৈরি করা হয়। পরে শুকিয়ে ক্যানভাসের আকৃতি দেওয়া হয়। এরপর ফুল এবং মুঘল আমলের বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলেন শিল্পীরা। বড়দিনের উৎসবকে মাথায় রেখে স্টার এবং বাবল সহ নানা ধরনের সামগ্রী তৈরি করেন। শিল্পী জাভেদ আহমেদ বলেন, ‘একটা সময় বল ও বেলস জাতীয় সামগ্রী তৈরি করতাম। গত কয়েক বছর ধরে ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে আমরা অন্যান্য সামগ্রীও তৈরি করছি।’ ঘর সাজানোর এসব জিনিসের চাহিদা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় পৌঁছে গিয়েছে। 
Advertisement
এছাড়াও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও চাহিদা রয়েছে ঘর সাজানোর এসব সামগ্রীর। তার সঙ্গে উপার্জনও বেড়েছে শিল্পীদের। বড়দিনে বাড়ে ‘পেপার ম্যাশি’র অর্ডার। সেকথা মাথায় রেখে জাভেদের মতো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন গুলাম আলি। তিনি বলেন, ‘একটি ক্রিসমাস বল তৈরি করতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। অল্পদিনের মধ্যে সেগুলি যাতে ডেলিভারি দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা করছি।’ তবে শুধু ব্যবসা নয়, কাশ্মীরের শিল্পকর্মকেও বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ রয়েছে শিল্পীদের মধ্যে।
তবে এবারের বড়দিনের আগে হতাশার সুর ভূস্বর্গের অনেক শিল্পীর গলায়। রুশ-ইউক্রেন থেকে সিরিয়া, ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন, লেবানন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে এই শিল্পে। জানালেন শিল্পী মুনির আহমেদ। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে এইসব দেশ থেকে প্রচুর অর্ডার আসত। কিন্তু এবার চাহিদা অনেকটাই কম।’ স্থানীয় বাসিন্দা ফয়াজ আহমেদের কথায়, ‘ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’ -পিটিআই
সম্পর্কিত সংবাদ