Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

কাশ্মীরে বরফে আটকাল গাড়ি, পর্যটকদের জন্য মসজিদের দরজা খুলে দিলেন স্থানীয়রা

কাশ্মীরে বরফে আটকাল গাড়ি, পর্যটকদের জন্য মসজিদের দরজা খুলে দিলেন স্থানীয়রা
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: শুধু মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, স্থানীয়দের নির্ভেজাল আতিথেয়তার জন্যও পরিচিত কাশ্মীর। বরাবর পর্যটকদের পাশে থেকেছেন উপত্যকার মানুষ। চলতি শীতে বিপন্ন পর্যটকদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এমনই একটি ঘটনার সাক্ষী থাকল ভূস্বর্গ। বরফঘেরা শ্রীনগর-সোনমার্গ হাইওয়ে দিয়ে ফেরার পথে হঠাৎই গুন্ডের কাছে পর্যটকদের গাড়ির চাকা আটকে যায়। একদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, অন্যদিকে প্রবল তুষারপাতে চারদিকে কিছু দেখাই যায় না। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠাণ্ডার দাপট। এই পরিস্থিতি রীতিমতো উৎকণ্ঠায় পড়ে যায় পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে আসা পর্যটকদের দল। এই পরিস্থিতিতে রক্ষাকর্তা হয়ে উঠলেন স্থানীয়রাই। কাছেই রয়েছে জামিয়া মসজিদ। সেই পবিত্র স্থানের দরজা তাঁরা পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ারব্যবস্থা করলেন। ফলে উপত্যকার হাড় কাঁপানো ঠান্ডার হাত থেকে রেহাই পেলেন পর্যটকরা। স্থানীয়দের এই সৌজন্যে স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত ওই পর্যটকরা। 
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দা বশির আহমেদ জানিয়েছেন, ‘প্রবল শীতে তাঁদের (পর্যটকের দল) জন্য মসজিদের দরজা খুলে দেওয়া হয়। কারণ মসজিদে হামাম (ফায়ারপ্লেস) রয়েছে। যার ফলে রাতে ঠান্ডা বাড়লেও পর্যটকদের কষ্ট হবে না।’ মসজিদের ভিতরে হাসিমুখে এক পর্যটকের ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল। 
গুন্ডের মতো কাশ্মীরের নানা প্রান্তেই প্রবল তুষারপাতে পর্যটকদের আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। টাংমার্গেও তুষারপাতে বহু পর্যটক আটকে পড়েন। তাঁদের নিজেদের ঘরেই থাকার ব্যবস্থা করেন বাসিন্দারা। এলাকাবাসী শাবির আহমেদ বলেন, ‘তাঁদের (পর্যটক) এই অবস্থা থেকে আমরা কীভাবে চুপ থাকব? কাশ্মীরের সংস্কৃতিই আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে।’ দিল্লির বাসিন্দা অজয় শর্মা বলেন, ‘গাড়ি আটকে যাওয়ার পর আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। তখনই স্থানীয় মানুষ এগিয়ে আসেন।’ অন্যদিকে পুলিস ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বহু আটকে পড়া পর্যটককে খাবার ও জল দেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে গুন্ড ও টাংমার্গের ঘটনায় স্থানীয়দের ভূমিকার প্রশংসা শোনা গিয়েছে পুলিসের গলাতেও। 
সম্পর্কিত সংবাদ