Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কসবার কয়েকশো পরিবারের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে গাঁদাচাষ

কসবার কয়েকশো পরিবারের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে গাঁদাচাষ
  • ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানকর: শীতকালীন ফুল হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে সারা বছরই গাঁদা ফুলের চাহিদা থাকে। ফলে পানাগড়ের কাছে কসবা থানা এলাকার বাসিন্দারা গাঁদাফুল বিক্রি করেই আয়ের উৎস খুঁজে পেয়েছেন। মূলত দামোদর নদের ধারে তাঁরা গাঁদাফুলের চাষ করছেন। কর্তাদের সঙ্গে গিন্নিরাও এই কাজে হাত লাগিয়েছেন। গৃহবধূরা বলছেন, শীতের মরশুমে রোজগার ভালোই হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফুলের বাজার ভালো থাকায় এলাকার চাষিরা অন্যান্য খাদ্যশস্যের পাশাপাশি নিয়মিত গাঁদাফুলের চাষ করছেন। তাছাড়া গৃহবধূরা ফুল তুলে নিজেরাই মালা গাঁথার কাজ করেন।
Advertisement
এলাকা ঘুরে দেখা গেল, বরিশালপাড়া, বড়মানা, পূর্বপাড়া, মাঝেরমানা সহ সংলগ্ন এলাকায় কয়েকশো পরিবার গাঁদাফুলের চাষ করেন। মহিলারা বলেন, প্রায় দু’ফুট লম্বা ২০টি মালা নিয়ে একটি গোছা তৈরি হয়। সংসারের কাজ শেষ করে আমরা মালা গাঁথতে বসি। দুপুরের খাওয়া সেরে একজোট হয়ে আমরা মালা গাঁথি। বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মালা গাঁথার কাজ হয়। এক একজন গড়ে ১০-১৫ গোছা তৈরি করতে পারে। মালা গাঁথার জন্য গোছা পিছু টাকা পাই। দু’শো থেকে আড়াইশো টাকা পর্যন্ত রোজগার হয়। গৃহবধূ সীমারানি বালা জানান, তাঁরা মাঠ থেকে ফুল তুলে এনে মালা গাঁথেন। তবে ফুল তোলার নিয়ম রয়েছে। ফুল শুকনো থাকলে তা সকালের দিকে তোলা হয়। কুয়াশা বা শিশিরে ভেজা থাকলে দুপুরের দিকে ফুল তুলতে হয়। তারপর সেই ফুল বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। চাষিরা জানান, এখানে লাল ও হলুদ গাঁদার চাষই বেশি হয়। তাছাড়া চেরি গাঁদার চাষও হয়। চাষি সুমন বালা বলেন, এক বিঘা জমিতে চাষ করতে ওষুধ, জমি তৈরি, শ্রমিক সব মিলিয়ে ২০-২২ হাজার টাকা খরচ হয়। গাছ লাগানোর দু’মাসের মধ্যেই ফুল ফুটতে শুরু করে। যত্নে রাখলে একটি গাছ চার মাস পর্যন্তও ফুল দেয়। চাষিরা জানান, অন্যান্য চাষের মতোই গাঁদাচাষেও বিভিন্ন দিক থেকে সতর্ক থাকতে হয়। যেমন, ফুলে যাতে দাগ না আসে সেজন্য কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। শক্তভাবে ফুল ধরে থাকার জন্য আলাদা ওষুধ রয়েছে। গাছে ফুল কখনওই ভর্তি করে রাখা যাবে না। ফুলের ভারে গাছ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেজন্য গাছের অতিরিক্ত ফুল তুলে নেওয়া হয়। বাঁশের বাতা পুঁতে প্রত্যেকটি গাছকে আলাদা করে বাঁধতে হয়। বাড়ির মহিলাদের গাঁথা কয়েকশো গোছা দুর্গাপুর অথবা হাওড়ার হাটে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্গাপুর স্টেশন সংলগ্ন বাজার থেকেই অণ্ডাল, রানিগঞ্জ, আসানসোল, বাঁকুড়া সহ নানা জায়গায় মালা সরবরাহ করা হয়।-নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ