Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

করোনাকালের পর চাহিদায় টান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি তলানিতে

করোনাকালের পর চাহিদায় টান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি তলানিতে
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
মুম্বই: ধর্মীয় মেরুকরণ ও পাঁচ ট্রিলিয়ন কোটির অর্থনীতির ঢক্কানিনাদেরও ঢাকা পড়ল না ভারতীয় অর্থনীতির ক্ষয়। এবার তা ফাঁস হল বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিসংখ্যানে। মানুষের হাতে টাকা নেই। পণ্যের চাহিদা না থাকায় ভাটার টান কলকারখানার উৎপাদনে। আর কারখানার চাকা না ঘুরলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে কিভাবে? স্বাভাবিকভাবে মার খেয়েছে বিদুৎ উৎপাদন। কেন্দ্রীয় শক্তি মন্ত্রকের অন্তর্গত গ্রিড ইন্ডিয়ার তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বেড়েছে মাত্র ৫.৮ শতাংশ হারে। কোভিডের পরের চার বছরে যা সর্বনিম্ন। এর মধ্যেই স্টেট ব্যাঙ্ক (এসবিআই) জিডিপি বৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তা সরকারের অনুমানের থেকেও কম। এসবিআই জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে এই হার থমকে যেতে পারে মাত্র ৬.৩ শতাংশে। চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৫.৪ শতাংশ। যা বিগত সাতটি ত্রৈমাসিকে সর্বনিম্ন।
Advertisement
অর্থনীতির এই ঝিমুনির প্রতিফলন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।  ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছ’মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছিল গড়ে ৯.৬ শতাংশ হারে। বাকি ছ’মাস তা বেড়েছে মাত্র ২.৩ শতাংশ। চলতি আর্থিক বছরে সামগ্রিক জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাসেও দেখা মিলছে না রুপোলি রেখার ঝলক। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে যা ৮.২ শতাংশ ছিল ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে তা ৬.৩ শতাংশ ছাড়াবে না বলে সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানিয়েছে এসবিআই। অর্থাৎ মঙ্গলবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের ৬.৪ শতাংশ হারের বৃদ্ধির পূর্বাভাসের থেকেও কম। এখানেও অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ঋণের ক্ষেত্রে ভাটার টান ও কলকারখানার উৎপাদনের দুর্বলতাকে।
স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে অর্থনীতির নিম্নগতি রুখতে মোদি সরকার করছে কী? ঢক্কানিনাদ ছেড়ে মোদি সরকারকে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। অর্থনীতিতে 
প্রাণ সঞ্চারে গরিব মানুষকে আর্থিক সাহায্য, ১০০ দিনের কাজ ও ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির মতো নানা পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মনে করিয়ে দিয়েছেন, জিএসটি কাঠামোয় সরলীকরণ ও মধ্যবিত্তের আয়কর ছাড় বাড়ানোর কথাও।
সম্পর্কিত সংবাদ