নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: একের পর এক বেআইনি কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ। কখনও নিয়ম না মেনে গর্ভপাত, কখনও আবার মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ রাখার মতো সাংঘাতিক কাণ্ড। এরকম একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ইংলিশবাজার শহরের একটি নার্সিংহোমকে সিল করে দিল জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বুধবার বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলবে না।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইংলিশবাজার শহরের ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়ম ও বেআইনি কাজকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে অবৈধভাবে গর্ভপাত করাতে গিয়ে ওই নার্সিংহোমে এক মহিলার মৃত্যু হয়। নানা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ নজরদারি দল পরিদর্শনে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ হয়। নার্সিংহোমের অধিকাংশ ওষুধের মেয়াদ উত্তীর্ণ। শুধু তাই নয়, নার্সিংহোমে একজনও স্বীকৃত নার্স পাওয়া যায়নি। আইসিইউ ছাড়া অন্য কোনও বিভাগে আরএমও ছিল না। এমনকি আইসিইউতে টেকনিশিয়ান ছিল না। নার্সিংহোমে প্রচুর মেয়াদ উত্তীর্ণ ইঞ্জেকশনও পাওয়া যায়। এভাবে চিকিত্সা চালানোর নামে রোগীদের আরও বিপদে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জলে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে নিয়ম না মেনে নার্সিংহোমে এনে চিকিৎসা করানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেউ জলে ডুবে গেলে পুলিসকে জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এখানে সেই নিয়মের তোয়াক্কাই করা হয়নি। এখনও করা হত না।
রোগীদের সুরক্ষার দিকে যে কোনও নজরই নেই তা প্রমাণ করেছে নার্সিংহোমে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা। ৭০টি বেডের অনুমোদন সত্ত্বেও স্বাস্থ্যদপ্তরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অতিরিক্ত ২৫টি অর্থাৎ ৯৫টি বেড বসানো হয়। এমনকি বায়োমেডিক্যাল ওয়েস্ট-এর জন্য সঠিক ব্যবস্থা ছিল না বলেও প্রশাসন জানিয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, রোগীর অপারেশনের আগে অ্যানাস্থেসিস্টের পরামর্শ নিতে হয়। এই নার্সিংহোমে সেই নিয়ম মানা হত না। এই সমস্ত অনিয়মের কারণে ওই বছরই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ে ডেকে শুনানি হয়। যার ভিত্তিতে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তর। একই সঙ্গে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তর থেকে সেই সময় নার্সিংহোমে রোগী ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মালদহ জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশ মানেনি। তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়। অবশেষে আদালতের নির্দেশেই মঙ্গলবার নার্সিংহোম বন্ধ রাখার নোটিস জারি করে জেলা প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেউ জলে ডুবে গেলে পুলিসকে জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এখানে সেই নিয়মের তোয়াক্কাই করা হয়নি। এখনও করা হত না।
রোগীদের সুরক্ষার দিকে যে কোনও নজরই নেই তা প্রমাণ করেছে নার্সিংহোমে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা। ৭০টি বেডের অনুমোদন সত্ত্বেও স্বাস্থ্যদপ্তরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অতিরিক্ত ২৫টি অর্থাৎ ৯৫টি বেড বসানো হয়। এমনকি বায়োমেডিক্যাল ওয়েস্ট-এর জন্য সঠিক ব্যবস্থা ছিল না বলেও প্রশাসন জানিয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, রোগীর অপারেশনের আগে অ্যানাস্থেসিস্টের পরামর্শ নিতে হয়। এই নার্সিংহোমে সেই নিয়ম মানা হত না। এই সমস্ত অনিয়মের কারণে ওই বছরই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ে ডেকে শুনানি হয়। যার ভিত্তিতে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তর। একই সঙ্গে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তর থেকে সেই সময় নার্সিংহোমে রোগী ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মালদহ জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশ মানেনি। তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়। অবশেষে আদালতের নির্দেশেই মঙ্গলবার নার্সিংহোম বন্ধ রাখার নোটিস জারি করে জেলা প্রশাসন।



