নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: আগাম ঘোষণা সত্ত্বেও কর্মবিরতি থেকে পিছু হটলেন মেদিনীপুর মেডিক্যালের জুনিয়র ডাক্তাররা। মূলত প্রশাসনের রোষানলে পড়ার ভয় থেকেই তাঁদের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন চিকিৎসক মহলেরই একাংশ। তাছাড়া জনমত বিপক্ষে যাওয়ার ভয়ও কাজ করেছে এই সিদ্ধান্তের পিছনে। এদিন মেডিক্যাল কলেজের এনআইসিইউ, সিসিইউ, শিশু ও প্রসূতি বিভাগের পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। কর্মবিরতি না হওয়ায় খুশি সাধারণ মানুষ। এদিন সাসপেন্ড হওয়া চিকিৎসক পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে কলকাতার চিকিৎসক সংগঠনের তরফে প্রতিনিধি দল আসে। তাঁরা দীর্ঘক্ষণ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কর্মবিরতি নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে, এদিনই মেদিনীপুর মেডিক্যালের সুপার পদে যোগ দেন চিকিৎসক ইন্দ্রনীল সেন। পাশাপাশি প্রসূতি বিভাগেও নতুন ৪ চিকিৎসক যোগ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।উল্লেখ্য, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল। ঘটনার তদন্তে প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের বিশেষ প্রতিনিধি দল আসে। তাঁরা পর্যবেক্ষণ করে চলে যান। তাঁদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে তিন প্রসূতিকে গ্রিন করিডর করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে এক প্রসূতির অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক। এরপর রাজ্যের তরফে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন, দ্রুত সাসপেনশন প্রত্যাহার করতেই হবে। দাবি না মানলে শুক্রবার থেকে তাঁরা কর্মবিরতি করবেন। এক জুনিয়র চিকিৎসক বলেন, অনেক পড়ুয়া কর্মবিরতি করতে ভয় পাচ্ছেন। যদি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে কেরিয়ারে তার প্রভাব পড়বে। এদিন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন শালবনীর বাসিন্দা স্বরূপ হালদার। তিনি বলেন, পরিষেবা পেয়েছি। সবই স্বাভাবিক।



