


সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যলগ্ন মানেই বাঙালির কাছে শুভ সূচনার প্রতীক। আর সেই শুভদিনেই কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পালয় গুলিতে জোরকদমে শুরু হয়ে গেল দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণের কাজ। ভোরের আলো ফুটতেই ঘূর্ণি ও নতুন বাজার পালপাড়ার অলিতে গলিতে গেলেই দেখা যাচ্ছে খড় বাঁধার শব্দ, বাঁশ কাটা ও মাটি মাখার কাজে ব্যস্ত শিল্পীরা। তাদের দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে রূপ নিতে শুরু করবে দুর্গাপ্রতিমা। এর ফলে এখন থেকেই যেন সেখানে দুর্গোৎসবের আগমনী সুর বেজে উঠেছে।
কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প বহু প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক। সূক্ষ্ম কারুকাজ ও নিখুঁত গড়নের জন্য এই অঞ্চলের প্রতিমার খ্যাতি শুধু রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও এর চাহিদা রয়েছে। তাই প্রতিবছরের মতো এ বছরও অক্ষয় তৃতীয়ার শুভক্ষণকে কেন্দ্র করেই প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু করে দিলেন শিল্পীরা। মৃৎশিল্পীদের বিশ্বাস, এই দিনে শুরু করা কাজ শুভ শক্তির আশীর্বাদে সাফল্যের মুখ দেখে এবং সারা বছর ধরে কাজের চাহিদা থাকে, রোজগার ভালো হয়। তবে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে কিছু দুশ্চিন্তাও। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি শিল্পীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগের তুলনায় এখন মাটি, খড়, রং সবকিছুর দাম অনেক বেড়েছে। কিন্তু প্রতিমার দাম বেশি দিতেই চায় না বারোয়ারিগুলো। ফলে লাভের পরিমাণ অনেকটা কমে যায়।
স্থানীয় এক প্রবীণ মৃৎশিল্পী নিমাইচন্দ্র পাল বলেন, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটা খুব ভালো দিন। এই দিনেই আমরা মা দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে নতুন কাজ শুরু করি। আমাদের বিশ্বাস এই দিনে কাজ শুরু করলে অর্ডার বাড়বে, আমাদের রোজগার ভালো হবে। এখন কাঠামো তৈরি হচ্ছে, কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই কাজের চাপ অনেক বেড়ে যাবে।
আরেক তরুণ শিল্পী সুজন পাল বলেন, এখন থেকেই আমাদের ব্যস্ততা শুরু হবে। সামনে তিন-চার মাস আমাদের নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকবে না। প্রতিবছর যারা আমাদের থেকে ঠাকুর নেয়, তারা এক বছর আগে থেকেই আমাদের বলে রাখে। ফলে আগে থেকেই কাজ শুরু করতে হয়। তবে কাঁচা মালের দাম বাড়ায় আমাদের লাভ আগের মতো আর হচ্ছে না। অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষ্যে গণেশ-লক্ষ্মী বিকিকিনি। কৃষ্ণনগরে তোলা নিজস্ব চিত্র।