Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষ্ণনগর: তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে লাটে পুরসভার উন্নয়ন

কৃষ্ণনগর: তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে লাটে পুরসভার উন্নয়ন
  • ১৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: তিন মাস ধরে পুরসভায় পড়ে রয়েছে বাড়ির প্ল্যান। এদিকে প্ল্যান পাশ না হওয়ায় ব্যাঙ্ক থেকে গৃহঋণ পাচ্ছেন না কৃষ্ণনগর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। এদিন কৃষ্ণনগর পুরসভায় এসে তিনি বলেন, ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে বাড়ি বানাব। কিন্তু তিন মাস  হতে চলল প্ল্যান পাশ হচ্ছে না। ওটা না পেলে ব্যাঙ্ক আমাকে হোম লোন দেবে না। বাধ্য হয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে ফোন করে বিষয়টা জানিয়েছি। শুধু বাড়ির প্ল্যানের অনুমোদন দেওয়াই নয়, কৃষ্ণনগর পুরসভার সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে।‌ বিভিন্ন কাজের প্রায় কোটি টাকার পেমেন্ট আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।‌ কারণ প্রায় তিন মাস হতে চলল কৃষ্ণনগর পুরসভায় হয়নি বোর্ড অব কাউন্সিল বা বিওসি মিটিং। সৌজন্যে শাসকদল তৃণমূলের কোন্দল। 

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার অফিস খুলতেই ফের পুরসভার চেয়ারপার্সনের ঘরের সামনে ধর্না দেন তৃণমূলের চেয়ারম্যানের বিরোধী গোষ্ঠীর কাউন্সিলাররা। এদিন নিজের অফিসে ঢুকতে না পেরে বাইরে চেয়ার-টেবিল পেতে বসে পড়েন চেয়ারপার্সন।‌ সেখান থেকেই সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেন। দুপুর দুটোর দিকে পুরসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। অন্যদিকে চেয়ারপার্সনের ঘরের দরজা আটকে বসে থাকেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধী গোষ্ঠীর কাউন্সিলাররা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর আকচাআকচির কারণে ভুগতে হচ্ছে শহরবাসীকে। 
কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাস বলেন, ওঁরা আদালতের উপর থেকেও আস্থা হারিয়েছেন। তাই এখন আমার ঘরের সামনে বসে রয়েছেন। আমাকে ঢুকতে দিচ্ছেন না। শহরবাসী পুরসভায় এসে খালি হাতে ফিরে যাবেন, এটা হতে পারে না। এসবের ফলে শহরের বহু উন্নয়নমূলক কাজ আটকে যাচ্ছে। বহু টাকার বিল পেমেন্ট করা যাচ্ছে না।‌ 
চেয়ারপার্সনের বিরোধী গোষ্ঠীর কাউন্সিলার মলয় দত্ত বলেন, আমার গত ২ মে থেকেই ধর্নায় বসেছি। একটা ফেক বাজেট চেয়ারপার্সন ডিএলবি’তে পাঠিয়ে দিয়েছেন।‌ আমাদের দাবি, ৭ মার্চ বাজেটের যে রেজল্যুশন কপিতে আমরা কাউন্সিলাররা স্বাক্ষর করেছিলাম, সেটা যেন দেওয়া হয়।‌ সবকিছু সংশোধন করে পুনরায় বাজেট মিটিং হোক। আমরা তাহলে মেনে নেব। আমাদের দল তৃণমূল কংগ্রেস কখনও অন্যায় ও দুর্নীতিকে সমর্থন করে না। তাই আমরা পুরসভার এই অন্যায়ের বিরোধিতা করছি। 
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই পুরসভার অভ্যন্তরে শাসকদলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে। চেয়ারপার্সনের সঙ্গে একাধিক কাউন্সিলারের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। গত ৭ মার্চ পুরসভার বাজেট অধিবেশন হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী কাউন্সিলারদের দাবি, পাশ না হওয়া বাজেটকে ডিএলবিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে পুরসভার তরফ থেকে। তারপর ১৭ মার্চ, ২৪ মার্চ সহ একাধিক তারিখে কাউন্সিলারদের চিঠি করেছিলেন চেয়ারপার্সন। সেখানে বাজেটের কী কী সংশোধন প্রয়োজন তাই জমা করতে বলা হয়েছিল। কাউন্সিলারদের অভিযোগ, নিয়ম না মেনেই নাকি বাজেট পাশ হয়েছে। 
এনিয়ে কৃষ্ণনগর পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলার বর্ণালি গুইন দত্ত বলেন, শহরের উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না। এনিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। আমরা চাই, তৃণমূলের নিজেদের দ্বন্দ্বের কারণে শহরবাসী যেন ভুক্তভোগী না হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ