Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষ্ণনগর থেকে করিমপুর রেলপথ হল না আজও,৩০ জানুয়ারি বাইক র‌্যালির সঙ্গে গণস্বাক্ষর

কথায় বলে যার নয়ে হয় না, তার নব্বইয়েও হয় না। তাই তো সেই ব্রিটিশ আমল থেকে এতবার সমীক্ষার পরও বাস্তবে রূপায়িত হয়নি কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেলরুট।

কৃষ্ণনগর থেকে করিমপুর রেলপথ হল না আজও,৩০ জানুয়ারি বাইক র‌্যালির সঙ্গে গণস্বাক্ষর
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, তেহট্ট : কথায় বলে যার নয়ে হয় না, তার নব্বইয়েও হয় না। তাই তো সেই ব্রিটিশ আমল থেকে এতবার সমীক্ষার পরও বাস্তবে রূপায়িত হয়নি কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেলরুট। সামনে কেন্দ্রীয় বাজেট।  বাজেটের আগে কৃষ্ণনগর – করিমপুর রেলপথের দাবি নিয়ে সরব তেহট্টের বাসিন্দারা। তাঁরা আগামী ৩০ জানুয়ারি বাইক র‍্যালির পাশাপাশি  গণস্বাক্ষর করে রেলমন্ত্রীর কাছে দাবিও জানাবেন।  সেই ১৯০৫ সাল থেকে বেশ কয়েকবার এই রেলপথের সমীক্ষা হলেও এখনও পর্যন্ত কাজের কাজ কিছু হয়নি। ২০২৩ সালে শেষ সমীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু সেবারের সমীক্ষার পর আর কাজ এগোয়নি।

Advertisement

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেলপথের দাবি দীর্ঘদিনের। ব্রিটিশ আমলে এই রেলপথ তৈরির জন্য বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই কারণে বঙ্গভঙ্গের সময় ১৯০৫ সালে এই রেলপথের প্রথম সমীক্ষা হয়। মোট ৯০ কিলোমিটার রাস্তার জন্য সেই সময় প্রায় আঠারো লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরেছিল ব্রিটিশ সরকার। যাত্রাপথে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৬টি ষ্টেশন হবে বলে সরকারি ভাবে জানানোও হয়েছিল। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে সেই রেলপথ বাস্তবায়িত হয়নি। এরপরে ১৯১০ সালে দ্বিতীয়বার সমীক্ষা হয়। সেই সময় এর সঙ্গে আরও ১১ কিলোমিটার যোগ করা হয়। সেটি হল কৃষ্ণনগর – নবদ্বীপ ঘাট। এই দুইয়ে মিলে মোট ১০১ কিলোমিটারের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল সাড়ে ১৭ লক্ষ টাকা। সেই সঙ্গে দশ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে জানানো হয়। ১৯২৬ সালে কৃষ্ণনগর-নবদ্বীপ ঘাট রেলপথ চালু হলেও কাজ হয়নি। স্বাধীনতার পর এই রেলপথ নিয়ে মানুষ ফের জোরালো দাবি তুলতে থাকেন। ১৯৬০ সালে বেথুয়াডহরি থেকে করিমপুর রেলপথ তৈরির দাবি উঠেছিল। কিন্তু তাও বাস্তবে হয়নি। এরপর ১৯৭২ সালে জেলার সব বিধায়ক মিলে সেই সময়ে কেন্দ্রের রেলমন্ত্রীর কাছে এই রেলপথ তৈরির আবেদন জানানো হলেও কিছুই হয় নি। পরে গনিখান চৌধুরী রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই রেলপথ তৈরির আশ্বাস দিলেও হয়নি। এরপর ২০০০ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী সেই বছরের ১৩  নভেম্বর  কৃষ্ণনগর – করিমপুর রেলপথের সুচনার শিলান্যাস করেন তিনি। ২০০২-০৩ সালের রেল বাজেটে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষ্ণনগর- করিমপুর রেলপথের চারাতলা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সমীক্ষার অনুমোদন করেন। ২০০৪ সালে এই রেলপথের জন্য শেষ সমীক্ষা হয়েছিল। শেষ সমীক্ষায় এই রেলপথ ধুবুলিয়া স্টেশন থেকে হওয়ার কথা হয়। এরপর ২০২৩ সালে সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রের উদ্যোগে ২ কোটি টাকা এই রেলপথের সমীক্ষার জন্য বরাদ্দ হয়। তারপরও কিছুই কাজ এগোয়নি।

সম্পর্কিত সংবাদ