


অগ্নিভ ভৌমিক , কৃষ্ণনগর:
জগদ্ধাত্রী পুজোকে নিয়ে কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের ঠান্ডা লড়াই দীর্ঘদিনের। প্রতিমা, প্রতিমার সাজ, থিম, মণ্ডপ ভাবনা সবেতেই এই দুই শহর একে অপরকে টেক্কা দিতে চায় প্রতিবছর। কিন্তু এবার সেই লড়াইয়ের ময়দান হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে নিজের এলাকার পুজোকে তুলে ধরার পাশাপাশি একে অপরকে নানা বাক্যবাণে বিদ্ধ করছেন নেটিজেনরা। অনেকেই এই লড়াইকে মজা করে ‘ডিজিটাল যুদ্ধ’ নাম দিয়েছেন। ফেসবুকের মতো এই সমাজ মাধ্যমে পুজো প্রচারের এক অন্যতম প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছে। কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে নিয়ে তৈরি হওয়া বহু ফেসবুক পেজে এই শহরের পুজোকে তুলে ধরা হচ্ছে। পুজোর মরশুমে এই পেজগুলি বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। শহরবাসী ও জেলাবাসীর পাশাপাশি বাইরের মানুষের কাছেও কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর খুঁটিনাটি নানা বিষয় তুলে ধরছে নেটিজেনরা।
কৃষ্ণনগরের উৎসব-ফেস্টিভ্যাল অফ কৃষ্ণনগর, কৃষ্ণনগর জগদ্ধাত্রী পুজো, জগদ্ধাত্রী উৎসব কৃষ্ণনগর, কৃষ্ণনগর জগদ্ধাত্রী মহোৎসব, জগদ্ধাত্রীর জন্মভূমি কৃষ্ণনগর—এরকম অসংখ্য ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে বিগত কয়েক কয়েক বছরে। যারা সারাবছর ধরেই কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে তুলে ধরছে সমাজ মাধ্যমে। আকর্ষণীয় রিলস, জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে ছোটো ডকুমেন্টারি, পুজো মণ্ডপ ও প্রতিমার চোখ ধাঁধানো ছবি দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সমাজ মাধ্যমে। কলকাতা কিংবা কলকাতাকেন্দ্রিক পুজোগুলোতে কর্পোরেট ছোঁয়া লাগলেও, কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোয় তার আঁচ সেভাবে এখনও পড়েনি। এছাড়াও প্রতি বারোয়ারির নিজস্ব ফেসবুক পেজ তো রয়েইছে। যেখানে তাদের পুজো সংক্রান্ত নানা খুঁটিনাটি তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে।
শহরের একটি ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন পূজা হালদার বলেন, ‘আমরা আমাদের পেজের মাধ্যমে জগদ্ধাত্রী পুজোর ঐতিহ্য ও গৌরবকে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমাদের শহরের জগদ্ধাত্রী পুজো শুধু উৎসব নয়। এটি আমাদের গর্বে ও অহংকারের ধারক।’ অপর একটি পেজের অ্যাডমিন অরিত্র মৌলিক বলেন, ‘কৃষ্ণনগর জগদ্ধাত্রী পুজো হল ঐতিহ্য। ছবি, ভিডিও সহ নানা মাধ্যমে আমাদের শহরের পুজোকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।’ তবে শহরবাসীর কথায়, এবছর সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের বাক্যবাণ তীব্র হয়েছে। সমাজ মাধ্যমে নিজেদের এলাকার পুজোকেই শ্রেষ্ঠ বলে তুলে ধরতে চাইছে অনেকেই।
কৃষ্ণনগর জগদ্ধাত্রীর জন্মভূমি হলেও চন্দননগর এই পুজোর জাঁকজমককে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। তবে, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে তাতে পাল্লা দিচ্ছে কৃষ্ণনগরও। স্বাভাবিকভাবেই মৃৎশিল্পের শহরে ঐতিহ্যের পাশাপাশি পুজোর জৌলুস বাড়ছে ইদানীং। আর সেটা সম্ভব হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃষ্ণনগর ও চন্দনগরের মিষ্টি-মধুর লড়াইয়ে। এদিকে, এ বছর পুলিশও কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যকে ডিজিটালি তুলে ধরতে উৎসাহমূলক একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। যাঁরা সবচেয়ে ভালো রিলস কিংবা ছবি তুলতে পারবেন, তাঁদের পুরষ্কৃত করা হবে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, ‘আমরা পুরুষ ও মহিলা ক্যাটাগরিতে রিলস-ছবি নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। একটি নির্দিষ্ট ই-মেল আইডি থাকবে। সেখানেই প্রতিযোগীরা নিজেদের কন্টেন্ট পাঠাবেন। ২৯ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা চলবে।’